বারি-১২ একটি উচ্চফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী ও লবণাক্ততা সহনশীল বেগুনের জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত এ জাতের বেগুন আকারে বেশ বড় ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় চাষে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত ৭০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তবে দিনাজপুরের ঘোড়াটে এ জাতের বেগুন আবাদ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তারা বলছেন, চার মাস আগে বীজ বপন করা হলেও গাছে এখনো ফল তো দূরের কথা ফুলই আসেনি।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের চারজন কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বারি-১২ জাতের বেগুন আবাদ করেছেন। চার মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত গাছে ফুল আসছে না। বীজ সরবরাহকারী ওপি কোম্পানির প্রতিনিধিদের ফোন দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অন্যের জমি বর্গা নিয়ে দেশীয় বিভিন্ন জাতের বেগুন আবাদ করতাম। গত বছর বেগুন চাষ করে বেশ লাভ হয়েছিল। ওপি কোম্পানির রাসেল নামে একজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আমাকে বারি-১২ জাতের বেগুন চাষের পরামর্শ দেন। বর্গা নেয়া দেড় বিঘা জমিতে সেই বীজ বপন করেছি। আমার মাধ্যমে অন্য তিন কৃষক একই বীজ ক্রয় করেছেন। বপনের কিছুদিন পার হওয়ায় গাছ গজাতে শুরু করে। এরপর দেখতে দেখতে ৯০ দিন অতিবাহিত হলেও গাছে কোনো ফুল বা ফল আসেনি। তখন রাসেল বলেছিলেন, তিন মাস অতিবাহিত না হলে ফল ধরবে না। অপেক্ষা করতে করতে ১২০ দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু গাছে ফুল বা ফল আসেনি। এখন কোম্পানির প্রতিনিধিকে ফোন করলে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেন। তাদের কথামতো ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হয়নি।’

অপর কৃষক তাজমল হক বলেন, ‘২৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ বপন করেছি। চার মাস হয়ে গেলেও গাছে ফুল আসেনি। এ বিষয়ে কোম্পানির লোকের সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। তারা শুধু আমাদের সঙ্গে চালাকি করছে।’

তবে বীজ বিক্রয়কারী রাসেল বলেন, ‘এটা মূলত শীতকালীন বেগুনের বীজ। কিন্তু কৃষকরা আগাম চাষ করার কারণে ফলন আসছে না। এছাড়া অন্য কোনো সমস্যা নেই। আমি তাদের বহুবার বুঝিয়েছি। বীজ খারাপ হলে তো চারা গজাত না।’

এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকজন কৃষক বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ অনলাইন থেকে ক্রয় করে প্রতারিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা করা যায় কিনা সেটি বিবেচনা করা হবে। ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে।’