সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ফুলজোড় নদের রামকান্তপুর খেয়াঘাটের দুই পাড়ে ২০টি গ্রাম রয়েছে। বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে নৌকায় চলাচল করে এসব গ্রামের মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায় নৌকা চলাচল। তখন সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাকে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রামকান্তপুর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। বাস্তবায়িত হচ্ছে না তাদের চাওয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে সেতু নির্মাণকাজের সমীক্ষা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন নদী পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শত শত শিক্ষার্থীকে। বর্ষা মৌসুমে পারাপার চলে নৌকা করে। খেয়াঘাটে কোনো যাত্রীছাউনি নেই। বছরে ছয় মাস চলে নৌকায়, বাকি ছয় মাস চলে সাঁকো দিয়ে।

উল্লাপাড়া উপজেলার এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মীম খাতুন এবং আকবর আলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই পথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। সেতু না থাকায় সারা বছরই ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় ক্লাসে উপস্থিত হওয়া যায় না।’

উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর দুই পাড়ের অনেক মানুষকে উপজেলা শহরে কাজে আসতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে অসুস্থ ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষায় নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এখানে সেতু নির্মাণ করলে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির পাশাপাশি ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।’

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে ফুলজোড় নদের ওপর ২০০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল এসে সমীক্ষা ও মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ করেছে। এটি পল্লী সড়কে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (ফেজ-২) অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।’