জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরির ঘটনায় ছয়টি ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। গতকাল ৩৫টি ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও ছয়টি ওয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চালু থাকা ৩৫টি ওয়ার্ডে নতুন জন্মসনদ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে চসিক।
অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে নগরীর ছয়টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৭৯৬টি জন্মসনদ তৈরি করে জালিয়াত চক্র। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও পুরো চক্রটি শনাক্তে কাজ করছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চসিকের ১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড, ১৩ নং পাহাড়তলী, ১৪ নং লালখান বাজার, ৩২ নং আন্দরকিল্লাহ, ৩৮ নং মধ্য হালিশহর এবং ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ করে একটি চক্র। এ ছয়টি ওয়ার্ড থেকে আট শতাধিক জন্মনিবন্ধন তৈরি করে চক্রটি। চলতি মাসের ১০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত অবৈধভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি মাধ্যমে এসব জন্মনিবন্ধন ইস্যুর তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, এক বছরের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ভুয়া জন্মনিবন্ধন করেছে চক্রটি। মূলত কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে থাকা আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চক্রটি কাজ করেছে। নতুন বছর শুরু হওয়ায় স্কুলে ভর্তিসংক্রান্ত কারণে জন্মসনদের প্রয়োজন বেশি হয়। এ চক্রটি ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে লোক জোগাড় করে টাকার লোভ দেখিয়ে এ কাজগুলো করেছে।
২০১৯ সালে সার্ভারে দ্বৈত আইডি ব্যবহার শুরু হয়। একটি আইডি ও পাসওয়ার্ড কাউন্সিলরদের জন্য দেয়া হলেও সেটা নিবন্ধন সহকারী বা কাউন্সিলরের একান্ত সহকারীরা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ আছে।
সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন জানান, চসিকের জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধনের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আপাতত যা তথ্য পাওয়া গেছে তাতে গ্রেফতারকৃতরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য সংগ্রহ করে অন্য কেউ সার্ভারে ইনপুট দেন। সার্ভার হ্যাক করে নাকি পাসওয়ার্ড দিয়ে জালিয়াত চক্রটি এ কাজ করছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে।
চসিকের ওয়ার্ড সচিবরা জানান, প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য তাদের কার্যালয়ে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু ছয়টি ওয়ার্ডে জন্মসনদ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। বাকি ৩৫টি ওয়ার্ডে জন্ম সনদের বিষয়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্দেশনায় সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারপর ডাটা এন্ট্রি করতে হচ্ছে। বছরের শুরু হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে শতাধিক আবেদন পড়ছে ওয়ার্ডগুলোয়। স্কুলে ভর্তি ছাড়াও পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য জন্মনিবন্ধনের চাপ একটু বেশী।
চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে কড়াকড়ি আরোপ করেছি।’










