খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত হুমায়ুন কবির সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি তাঁতি দলের খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন তিনি। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। আগামী কেসিসির নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সন্ধ্যায় হুমায়ুন কবির নগরের রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি বুকে আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে মোস্তফার মোড় এলাকার একটি শোরুমে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বাকিতে ফ্রিজ কেনেন হুমায়ুন। ফ্রিজের টাকা পরিশোধ নিয়ে ওই দোকানদারের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল।

আজ বিকালেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পরে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় ছাত্রদল দায়ী বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবারের। হাসপাতালে হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব বলেন, নগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তার চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

খুলনা মহানগর তাঁতি দলের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদ জানান, নিহত হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কারা এবং কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে- সে বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারিনি।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।