বগুড়ায় এরই মধ্যে সিংহভাগ পাট কেনাবেচা হয়েছে। তবে এবার বন্যায় পাটের ক্ষতি না হলেও অনাবৃষ্টি, খরা আর শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে চাষীদের আয় কমেছে। শ্রমিক, সার, পানি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাট উৎপাদনে চাষীদের লাভও কমেছে। জেলার হাটবাজারে পাট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ। কাঁচা পাট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ। তবে পাটচাষীরা বলছেন, ৩ হাজার টাকা মণ হলে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পেতেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। প্রতি বছর জুলাই থেকে আগস্টে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীতে বন্যা দেখা দেয়। এ কারণে বন্যার আগেই নদী এলাকার চাষীরা সিংহভাগ পাট কেটে দূরের পুকুরে জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করে রাখেন। প্রতি বছর বন্যার আগে নদীর পানি সেচ দিয়ে পাট চাষ করেন চাষীরা। কিন্তু এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। পাট চাষের সময় সেচের পানির অভাবের সঙ্গে জমিতে ব্যবহারের পানিরও অভাব দেখা দেয়। আবার অনাবৃষ্টি, তীব্র খরা আর শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে পাট চাষে জটিলতা দেখা যায়। খরচ বেড়ে যাবে বলে অনেক চাষীই পাট চাষ করেননি। পাট কাটার সময় এলেও বৃষ্টির অভাবে কাটতে পারেননি সময়মতো। কোনো কোনো স্থানে চাষীরা পাট কেটে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীতে জাগ দিয়ে রাখেন। আবার কেউ শুকিয়ে যাওয়া বিলে ও পুকুরের অল্প পানিতে জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার পাটচাষী হোসেন আলী জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে এ বছর পাট চাষ করেন। চাষের পর ফলন ভালো দেখা গেলেও খরার কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। পাটের আঁশ ছড়াতে প্রতি শ্রমিককে ৬০০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। আগে ছিল ৪০০ টাকা। পরিবহন খরচ ছিল ২৫০ টাকা, এখন তা ৩০০-৩৫০ টাকা হয়েছে। সময়মতো জাগ দিতে না পরলে অন্যের পুকুরে জাগ দিতে হলে পুকুর মালিককেও কিছু ভাড়া দিতে হয়। এসব কারণে পাট চাষে খরচ বেড়েছে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় পাট চাষ হয়েছিল ৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর ফলন হয়েছিল ১৬ হাজার ৩৩০ টন।

তবে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম জানান, এ উপজেলায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৬০-৭০ মণ করে পাট উৎপাদন হয়। উৎপাদনে প্রতি বিঘায় খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে এটি একটি লাভজনক ফসল। অনাবৃষ্টি এবং তীব্র দাবদাহে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তবে যেসব জমিতে কৃষক পাট চাষ করেছেন তাদের জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে খুব কম পাট কেনাবেচা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে নতুন পাটের ভালো আমদানি ছিল।’