খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রায় দুই মাস পর ক্যাম্পাসে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বন্ধ থাকা ক্যাম্পাসে রোববার (১৩ এপ্রিল) ফিরে আবাসিক হলে ওঠার ঘোষণা দেন। ‘কুয়েট ১৯’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে কুয়েট শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ওই পেইজে বলা হয়, সকল কুয়েটিয়ানকে রোববার ঠিক দুপুর ২ ঘটিকায় কুয়েট মেইন গেটে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

রোববার বেলা ২টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ থাকা প্রধান ফটকের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে জড়ো হতে দেখা যায়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (নর্থ) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, তারা কুয়েটের পরিস্থিতি অবগত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ২টি গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা যাতে বন্ধ ক্যাম্পাসে না ফেরেন, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিক সভা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি, বিজ্ঞপ্তি জারি ও অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে; পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারেন, এজন্য কুয়েট কর্তৃপক্ষ নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। ২২ জন শিক্ষার্থীর নামে ও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে মামলা দিয়ে হয়রানি আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা। কুয়েট প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির যোগসাজশেই এ প্রহসন।

শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়েটের ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলা করেছেন নগরের মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার হোচেন আলী নামের এক ব্যক্তি।

আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে খানজাহান আলী থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ওই মামলার বিষয়ে জানাজানি হয়।

মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হোচেন আলী কুয়েট রোড দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পকেট গেটের সামনে গেলে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় প্রধান ফটক বন্ধ। তবে প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন আছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রহরায় আছেন। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়; এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়। রাতে খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে প্রশাসন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সব রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনকে লাল কার্ড দেখান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা খুলনা থেকে ঢাকায় এসে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন। এতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৯৯তম (জরুরি) সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হলত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।