সৌন্দর্যবর্ধন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রোপণ করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। লক্ষ্য ছিল সড়কে চলাচলরত অবস্থায় এক লেনের গাড়ির আলো অন্য পাশে এসে যেন বাধা সৃষ্টি না করে। চট্টগ্রাম শহরের সিটি গেট থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির ৪২ হাজার ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করা হয়। আবার দাউদকান্দি থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত রয়েছে আরো ৫৪ হাজার গাছ। তবে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড অংশের অনেক স্থানে গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু গাছ দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে পড়েছে। আবার কিছু গাছ মরে গেছে। ফলে ওইসব স্থান ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯২ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পটি ২০০৬ সালে একনেকে অনুমোদিত হয়। দুই দফা দরপত্র আহ্বান বাতিল হওয়ার পর প্রথম দফায় প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে কাজ শেষ করতে সময় বাড়ানো হয় ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তৃতীয় ধাপে আবারো মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সবশেষ চতুর্থ ধাপে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ২ জুলাই কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চট্টগ্রাম তোরণ পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার চার লেন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় মহাসড়কে রোপণ করা হয় ফুল ও ফলের গাছ, যার বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।

সওজ বিভাগের সহকারী বৃক্ষপালনবিদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া বৃক্ষের স্থানে নতুন করে বৃক্ষরোপণ ও আগাছা পরিষ্কার করতে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই বছর আগে বরাদ্দ চাওয়া হয়।’

এ বিষয়ে সওজ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দীন চৌধুরীর বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা আগাছা পরিষ্কার করছি। তবে বৃক্ষরোপণের জন্য সওজ বিভাগের আরবরি কালচার নামে একটি বিভাগ রয়েছে। আমরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছি।’

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ৩০ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিব উল্ল্যা নামে এক রোলার চালক নিহত হন। একই দিন ঠাকুরদিঘি এলাকায় চলন্ত লরির পেছনে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হন। ১৯ জুন বাদামতলী এলাকায় কনটেইনারবাহী লরির ধাক্কায় জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। এ সময় লরিটি সড়ক বিভাজনের ওপর উঠে যায়।