কুষ্টিয়ায় ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার সংঘর্ষ থেকে নিহতের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলা দুটি গ্রহণ করে নথিভুক্ত করে গতকাল বুধবার রাতে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মতিয়ার মণ্ডলের ভাই আশরাফুল বাদী হয়ে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহকে প্রধান আসামি করে ৬৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে সংঘর্ষে নিহত রহিম মালিথার ছেলে রফিকুল বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ আনিস মেম্বারকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
দুটি মামলার বাদী ও সব আসামিই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনও ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এরই মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন- আস্তানগর গ্রামের দাউদ মণ্ডলের ছেলে লাল্টু (৪০), মৃত হাসেম আলীর ছেলে কাশেম (৫০), মৃত আবুল আলীর ছেলে রহিম (৫৫) ও আজিজ মণ্ডলের ছেলে মতিয়ার মণ্ডল (৪৫)। তারা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী।
এদের মধ্যে নিহত মতিয়ার, লাল্টু ও কাশেম বর্তমান ঝাউদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসানের সমর্থক। অন্যদিকে আব্দুর রহিম মালিথা প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলীর সমর্থক।
এবারের ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে জানা যায়, ঐ গ্রামের জনৈক রহিমের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব চলছিল রশিদুল নামের এক ব্যক্তির। রহিম উজানগ্রাম বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বটতলা নামক স্থানে রাশিদুলের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে বেলা সাড়ে ৫টার দিকে রশিদুলের সঙ্গে থাকা আনিস, মতিয়ার, সাবুসহ কয়েকজন মিলে রহিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ইফতারের পর কেরামতের লোকজন রহিম হত্যায় জড়িত মতিয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন মতিয়ার (৪০), লাল্টু (৩০) ও কাশেম (৫০)।
এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আরো ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন।
ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। পুরো আস্থানগর গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে গেছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতয়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার খায়রুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দোষীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। তবে যেখানেই পালিয়ে থাক তাদের গ্রেফতার করা হবে।










