জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ব্রিফ করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান,বৈঠকে বাংলাদেশের অগ্রসরমান, উন্নয়নশীল অর্থনীতির দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। টেকসই অর্থনীতির জন্য, আমাদের সাসটেইনেবল ইকোনমিকের জন্য অনেক কিছু করার স্কোপ এবং সোর্স এখানে বিদ্যমান। বিশেষ করে তিনি সারা দুনিয়ায় পোশাক শিল্পে প্রধান রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে রফতানির শুল্ক ট্যারিফের বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আশা করা যায় এটা একটা সহনীয় পর্যায়ে আমাদের জন্য নির্ধারিত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশটা ছোট, কিন্তু জনসংখ্যা বিপুল। অনেক সম্ভাবনাময় রিসোর্স, প্রাকৃতিক সবুজ বনভূমি, নদীনালা, সাগর, সমৃদ্ধ মৌসুমী বায়ুর এ দেশে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সৎ নেতৃত্ব এবং একটি সুষ্ঠু দেশ গঠনের জন্য আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক উন্নয়নশীল দেশ গঠনের যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তা সফল হলে, এ দেশটাকে একটা করাপশন ফ্রি এবং একটি সাসটেইনেবল ইকোনমিকের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
অধ্যাপক পরওয়ার আরো বলেন, রাষ্ট্রদূত আগামী নির্বাচন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার পরিস্থিতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। দলের আমির এ বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন। আমরা একটু গুরুত্বপূর্ণ মেজর ইস্যুতে সংস্কার করে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। জামায়াতের প্রতিনিধি দল ঐকমত্য কমিশনের নিয়মিত নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেখানে সময় দিচ্ছেন। আমরা আশাকরি একটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচেনের পরিবেশ তৈরি হবে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে দলের আমীর জানিয়েছেন, রমজানের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব আমাদের পক্ষ থেকেই দেয়া হয়েছিলো। সে বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এতে কালো টাকা, পেশীশক্তি ও মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন মিস জিন-হি বেক। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাড. মতিউর রহমান আকন্দ, আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।















