তিস্তা
নদীর পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে
পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বুধবার
(৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার
পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে
জানা গেছে।
বিষটি
নিশ্চিত করেছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌলা।
তিনি
বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা
হয়েছে। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেননা
তিস্তা নদীর পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে তিস্তায় রেডর্ক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবো
ও তিস্তা তীরবর্তী সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানিবৃদ্ধির কারণে পাটগ্রাম উপজেলার
দহগ্রাম ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গোড্ডিমারী, সিন্দুর্ণা, ডাউয়াবাড়ী,
পাটিকাপাড়া, সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা, তুষভাণ্ডার, ভোটমারী ইউনিয়ন,
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, পঞ্চগ্রাম,
গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ডালিয়া
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মো.নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুর ১২টায় তিস্তা
ব্যারাজের উজানে ৫১ দশমিক ৩৯ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা হয়। এর এক ঘণ্টা পরেই
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। বিকাল ৩টায় ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার
পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় পানিপ্রবাহ আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫২
দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানিপ্রবাহ অব্যাহত
রয়েছে। এখনো পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী
বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
লালমনিরহাট
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, তিস্তার চরে এবার বাম্পার
আমন ধানের ফলন হয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের
সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাতীবান্ধা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি
ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিস্তা নদীর তীরবর্তী
ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষতির নিরূপণ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয়
সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।
লালমনিরহাট
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, ফ্লাশ ফ্লাড যেন দীর্ঘ স্থায়ী না হয় সেদিকে জেলা
প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টিপাত রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের
মনিটরিং করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










