দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের চারটি উপজেলাই সীমান্তঘেঁষা। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ বেশি থাকে। তবে শীতপ্রবণ জেলা হলেও নেই আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে নির্ভর করতে হয় পাশের জেলার ওপর। এতে অনেক সময় ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক ও পেশাজীবী মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবহাওয়া অফিস না থাকায় গণমাধ্যম কর্মীরা সঠিক তাপমাত্রার খবর প্রচার করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। অনেকের আলু খেতে পচন রোধ ও বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সারা দেশে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সঠিক তথ্যের অভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না। এতে তীব্র শীতেও শিক্ষার্থীদের আসতে হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ঠাকুরগাঁও জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি রেজাউল প্রধান বলেন, ‘শীতের সময় তাপমাত্রা নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের আপডেট দিতে হয়। অনেক সময় পাশের জেলার আবহাওয়া অফিস থেকে তথ্য নিতে হয়। আবার কখনো মুঠোফোন দেখে তথ্য দিতে হয়৷ এতে অনেক সময় সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হই।’

ঠাকুরগাঁও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকতার হোসেন বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস না থাকায় সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে৷ মুঠোফোনে একেক সময় একেক রকম তাপমাত্রা দেখা যায়।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত পাঁচ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটি। অথচ আবহাওয়া অফিস না থাকায় সঠিক তাপমাত্রার তথ্য বিভ্রান্তিতে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবহাওয়া অফিস থাকলে আগ থেকে পূর্বাভাস জানা সম্ভব হতো। এতে ফসলও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় আবহাওয়া অফিস থাকলে ভালো হতো। তবে আমরা বিষয়টি অধিদপ্তরকে জানাব।’