রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় অনেক বন্দি ছাড়া পেয়েছে। জামিনে মুক্তি পেয়েছে বিচারাধীন বিভিন্ন বন্দি। এমনকি কারাগার ভেঙে পালিয়েছে হাজার খানেক বন্দি। এর পরও দেশের কারাগারগুলোয় এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি বন্দি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কারাগারে সবচেয়ে বেশি বন্দি রয়েছে। আর ধারণক্ষমতার চেয়ে কম বন্দি রয়েছে খুলনা, সিলেট ও রংপুরে। কারা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

কারা অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোয় বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪২ হাজার ৮৮৭ জন। এর বিপরীতে কারাগারগুলোয় বন্দি রয়েছে ৫২ হাজার। এর মধ্যে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন হাজতি। সবচেয়ে বেশি বন্দি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৩ হাজার ৩০০ ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে ১৬ হাজার ৯০০। এর পরই চট্টগ্রামের অবস্থান। বিভাগটিতে ৬ হাজার ৯৫০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে ১১ হাজার। সর্বোচ্চ বন্দি বিবেচনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এখানে ৪ হাজার ১৮০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে ৮ হাজার। এছাড়া বরিশাল বিভাগে দুই হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে ২ হাজার ১০০ জন। আর ময়মনসিংহে ১ হাজার ৮০০ ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে আড়াই হাজার।

দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের পটপরিবর্তনের সময় সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়। কারা অধিদপ্তরও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বেশ কয়েকটি কারাগারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং দুই হাজারের অধিক বন্দি পালিয়ে যায়। কয়েকটি কারাগার থেকে গোলাবারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে। পলায়নের সময় কয়েকজন বন্দির মৃত্যুসহ অনেক কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাংচুরের ফলে দুটি কারাগারে ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর আবাসস্থল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় কারা বিভাগ অন্যান্য কারাগার সুরক্ষিত রাখে।

ধারণক্ষমতার কম বন্দি রয়েছে তিনটি বিভাগে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে পাঁচ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে সাড়ে চার হাজার। রংপুর বিভাগে ৫ হাজার ১৭৯ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছে সাড়ে তিন হাজার। সিলেট বিভাগের কারাগারগুলোয় ৪ হাজার ৪৮২ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছেন সাড়ে তিন হাজার।

জানতে চাইলে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে বেশ কয়েকটি কারাগারে ধারণক্ষমতার কম বন্দি রয়েছে। আবার কিছু কারাগারে ধারণক্ষমতার বেশি বন্দি রয়েছে। তবে সচরাচর দেশের কারাগারগুলোয় ধারণক্ষমতার বেশি বন্দিই থাকে। এবারই প্রথম ধারণক্ষমতার কম বন্দি রয়েছে কিছু কারাগারে।’

অভ্যুত্থানের আগে গত ৩১ জুলাই দেশের কারাগারগুলোয় বন্দি ছিল ৭৯ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে বিচারের অপেক্ষায় থাকা হাজতি বন্দির সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৬৬৫। আর গত ১৬ জুন দেশের কারাগারে মোট বন্দির সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ১৮০। এর মধ্যে হাজতি ছিল ৪৪ হাজার ৮৪৫ জন।

শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক হাজতি বন্দি দেশের কারাগারগুলোয় অবস্থান করছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা করে বন্দিরা। কোনো কোনো কারাগারে চালানো হয় হামলা-ভাংচুর। এমন পরিস্থিতিতে দুই হাজারের অধিক বন্দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার আসামিও আছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কিছু বেশি বন্দি রয়েছে। তবে সব কারাগারের চিত্র অবশ্য এক নয়। কোনো কারাগারে ধারণক্ষমতার অনেক কম বন্দি রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় থাকা বন্দির সংখ্যা কারাগারগুলোয় কমে এসেছে।’