কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় গঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গতকাল সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দল সাদাপাথর এলাকায় যায়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিবের পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অন্তর্ভুক্ত আছেন। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইউএনও রবিন মিয়া বলেন, ‘সকালে তদন্ত দল সাদাপাথর এলাকা ঘুরে দেখে। প্রথমে তারা রেলওয়ে বাংকার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।’

এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।’

এর আগে শনিবার সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর ফেরত দিতে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, শাহ আরেফিন টিলা (১৩৬ একর), সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র ও পাশের ১০ একরের রেলওয়ে বাংকার, গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের লালাখাল ও শ্রীপুর-রাংপানি এলাকায় ব্যাপক পাথর লুটপাট চলে। ফলে এসব এলাকা প্রায় পাথর ও বালুশূন্য হয়ে পড়ে। রেলওয়ে বাংকার ও শাহ আরেফিন টিলা রীতিমতো খানাখন্দে পরিণত হয়। এতে বিপুল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে এবং একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

দেশে বর্তমানে অনুমোদিত ৫১টি পাথর ও বালু কোয়ারি রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে আটটি কোয়ারি অনুমোদিত। তবে সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া প্রভৃতি আরো ১০টি স্থানে প্রাকৃতিকভাবে পাথর-বালু জমে, যা মূলত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি নদী থেকেই এসব পাথর ও বালু ভেসে আসে।

২০১৯ সাল পর্যন্ত সিলেটের আটটি কোয়ারি ইজারা দিয়ে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হতো। কিন্তু পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারণে ২০২০ সালের পর আর কোনো পাথর কোয়ারি ইজারা দেয়া হয়নি।