কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া ১৪ জন রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন চট্টগ্রাম জেলায়। মৃত্যুহার বিবেচনায় এটিই চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ রেকর্ড। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে গড়ে ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি, যা চট্টগ্রামে রেকর্ড। হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়া এবং আইসিইউ সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং লকডাউন আরো বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম জেলায় কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৭ জন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে উপজেলাগুলোতে ৭৮ জন বা ৬৭ শতাংশ এবং মহানগরীর ৩৯ জন বা ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ উপজেলাগুলোতে গত ২৩ দিনে কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়ে নগরীর দ্বিগুণ মানুষ মারা গেছে, যা চট্টগ্রাম নগরীর দ্বিগুণ। এমনকি উপজেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হারও বেড়েছে নগরীর তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ।

গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৬ মাসে চট্টগ্রাম জেলায় মারা গেছেন ৭৭১ জন, যাদের মধ্যে পুরুষ ৫১৮ ও নারী ২৫৩ জন। এ সময় চট্টগ্রাম নগরীতে মারা গেছেন ৪৯৭ জন এবং উপজেলায় ২৭৪ জন।

এদিকে চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ জন। তাদের মধ্যে নগরীতে ৪ হাজার ২৬৮ ও উপজেলার ১ হাজার ৯৭৭ জন। গত ১১ দিনে চট্টগ্রাম জেলায় নতুন পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৭টি। শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও উপজেলায় এ শনাক্তের হার প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে গত পাঁচদিনে শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে উপজেলাগুলোর মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪৯ জন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৪২৮ জন। অর্থাৎ উত্তর চট্টগ্রামে সংক্রমণের হার দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে সাড়ে তিনগুণের বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রামের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়েছে হঠাৎ করেই। গত ১১ দিনের প্রতিদিনই এ সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। মূলত আক্রান্তদের শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব লক্ষ করা গেছে। বিশেষত উপজেলাগুলোর অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। গত ১১ দিনে উত্তর চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের হার ৭৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সংক্রমণের হার ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তাছাড়া নগরীতে সরকারের লকডাউন কিছুটা মেনে চলা হলেও গ্রামাঞ্চলে লকডাউন মেনে চলার প্রবণতা বেশ কম। তাছাড়া নানা অজুহাতে মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতাও বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে গ্রামাঞ্চলে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। এমনকি মৃত্যু সংখ্যাও বেড়েছে সেখানে। গতকাল চট্টগ্রামে করোনায় রেকর্ড মৃত্যু হওয়া ১৪ জনের সাতজন বিভিন্ন উপজেলার। করোনার ঝুঁকি উপজেলাগুলোতে বাড়ছে। নগরীর মতো সচেতনতা সেখানে তৈরি হয়নি। মূলত অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু হওয়ায় করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। বর্তমানে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে।