ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম (৪৭) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত রবিউল ইসলাম জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতেই হরিণাকুণ্ডু পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি পলাশ আহমেদসহ পাঁচটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন নিহতের সমর্থকরা। সে সময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে নিহতের ভাগ্নে রাসেলকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এদিকে গতকাল সকালে আবারো বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর-দোকানপাটে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ভাংচুর, লুটপাট বন্ধ ও আবারো সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ও খবির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৫ মার্চ জামালের চাচাতো ভাই জীবনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে খবিরের লোকজন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। আসামিরা জামিনে বের হয়ে এলে দুইদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলে আসছিল। আগের মারধরের জের ধরে শুক্রবার বিকালে আসরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রবিউল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে খবিরের সমর্থকরা। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে পদ্মা সেতু পার হলে রাত ১০টার দিকে রবিউল মারা যান।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘রবিউলের ওপরে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’










