ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
(ঢাবি) ব্যবসায়
শিক্ষা অনুষদ
প্রাঙ্গণে চলছে
‘নন-ফিকশন
বইমেলা ২০২২’।
গতকাল ছিল
তিন দিনব্যাপী
বইমেলার দ্বিতীয়
দিন। এদিন
মেলা প্রাঙ্গণে
দর্শনার্থীর উপস্থিতি
ছিল চোখে
পড়ার মতো।
ক্লাস-পরীক্ষার
ফাঁকে সময়
করে সহপাঠীদের
সঙ্গে মেলায়
এসেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরব উপস্থিতি
ছিল শিক্ষক-গবেষকদের।
সব মিলিয়ে
সকাল থেকে
সন্ধ্যা অবধি
দর্শনার্থীর পদচারণে
উৎসবমুখর ছিল
গোটা মেলা
প্রাঙ্গণ।
ষষ্ঠবারের মতো
যৌথভাবে এ
নন-ফিকশন
বইমেলার আয়োজন
করেছে ঢাবির
ব্যবসায় শিক্ষা
অনুষদ ও
বণিক
বার্তা।
প্রতিদিন সকাল
১০টা থেকে
রাত ৮টা
পর্যন্ত সবার
জন্য উন্মুক্ত
থাকছে মেলা।
গতকাল মেলা
প্রাঙ্গণ ঘুরে
দেখা যায়,
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর
বাইরেও মেলায়
বই কিনতে
এসেছে বিভিন্ন
শ্রেণী-পেশার
মানুষ। তবে
দর্শনার্থীদের মধ্যে
আধিপত্য ছিল
তরুণ পাঠকদের।
সারাদিন ধরেই
ক্লাসের পাঠ
চুকিয়ে বন্ধুদের
সঙ্গে দলবেঁধে
মেলায় আসেন
শিক্ষার্থীরা। পরিবারের
সদস্যদের নিয়ে
মেলায় আসেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারাও।
সহপাঠীর সঙ্গে
বইমেলায় এসেছে
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
বিভাগের মো.
হাবিবুর রহমান।
বণিক
বার্তাকে
তিনি বলেন,
‘বই
কেনা আমার
শখ। বইমেলা
হচ্ছে—প্রথম
দিন জানতাম
না। আজ
জানতে পেরে
আর বিলম্ব
করিনি। মেলায়
এসে আমি
খুবই খুশি!
কারণ অনেক
দিন ধরে
একটা বই
খুঁজছিলাম, কিন্তু
কোত্থাও পাচ্ছিলাম
না! এই
মেলায় পেলাম।’
বইটির নাম—‘সেল
মি দিস
পেন’।
এটি একটি
আত্ম উন্নয়নমূলক
বই।
মেলার স্টলগুলো
ঘুরে দেখেন
পানি ব্যবস্থাপনা
বিশেষজ্ঞ ড.
মুহাম্মদ বদরুল
হাসান। মেলার
আয়োজকদের ধন্যবাদ
জানিয়ে বণিক বার্তাকে তিনি
বলেন, ‘আমার
জানামতে, এটিই
বাংলাদেশের একমাত্র
বইমেলা, যেখানে
শুধু নন-ফিকশন
বইগুলো পাওয়া
যায়। এই
মেলা থেকে
শিক্ষক-শিক্ষার্থী
ও গবেষকরা
ব্যাপকভাবে উপকৃত
হবেন। কারণ
তাদের নিজ
নিজ কাজের
জন্য প্রয়োজনীয়
তথ্যমূলক পুস্তক
এই মেলা
থেকে পাবেন।
এ রকম
ব্যতিক্রমী আয়োজনের
জন্য সংশ্লিষ্ট
সবাই প্রশংসার
দাবি রাখে।
শুধু ব্যবসায়
শিক্ষা অনুষদ
নয়, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
ও বিভিন্ন
অনুষদের সঙ্গে
সমন্বয়ের মাধ্যমে
বড় আকারে
এই নন-ফিকশন
বইমেলার আয়োজন
করা যেতে
পারে।’
ক্রেতার উপস্থিতি
চোখে পড়ার
মতো হওয়ায়
প্রথম দিনের
তুলনায় দ্বিতীয়
দিন বেচাকেনা
ভালো ছিল।
বইয়ের কাটতি
ভালো হওয়ায়
খুশি বিক্রেতারাও।
তবে মাসের
শুরুতে মেলার
আয়োজন হলে
বিক্রি আরো
বেশি হতো
বলে জানান
তারা। তাদের
দাবি, মাসের
প্রথম সপ্তাহে
সবার হাতেই
পর্যাপ্ত টাকা
থাকে। সুতরাং
বিক্রি ভালো
হওয়ার সুযোগ
থাকে। কিন্তু
মাসের শেষে
এসে হাতে
টান পড়ে
যায়। তাই
চাইলেও অনেকে
বই কিনতে
পারেন না।
বেচাকেনার বিষয়ে
সময় প্রকাশনের
বিক্রেতা সংকর
দাশ বণিক বার্তাকে বলেন,
আজ (গতকাল)
সকাল বেলায়
বিক্রি ভালো
হয়েছিল। কিন্তু
বিকালের দিকে
লোকসমাগম বাড়লেও
বিক্রি বাড়েনি।
সব মিলিয়ে
বেচাকেনা আশানুরূপ।
তবে আগামীকাল
(আজ) শেষ
দিনে বিক্রি
বাড়বে বলে
তার প্রত্যাশা।
তবে তিনদিনের
এই আয়োজনকে
অনেক কম
সময় মনে
করছেন পাঠক-প্রকাশকরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
জানান, অনেকের
ক্লাস-পরীক্ষা
থাকে। কারো
কারো ব্যস্ততা
থাকে। সুতরাং
মেলার সময়
বাড়িয়ে এক
সপ্তাহ কিংবা
যৌক্তিক করা
যেতে পারে।
যেন সবাই
মেলায় আসার
সুযোগ পায়।
মেলায় ৩০
শতাংশ পর্যন্ত
মূল্যছাড়ে বই
কেনার সুযোগ
পাবেন দর্শনার্থীরা।
পাশাপাশি দর্শনার্থীদের
জন্য ফটো
কনটেস্ট ও
র্যাফল ড্রর
আয়োজনও থাকছে।
এসব প্রতিযোগিতায়
বিজয়ীদের জন্য
থাকছে আকর্ষণীয়
পুরস্কার জিতে
নেয়ার সুযোগ।
আজ বিকাল
৪টায় মেলার
সমাপনী অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি
থাকবেন ঢাবির
উপ-উপাচার্য
(শিক্ষা) অধ্যাপক
ড. এএসএম
মাকসুদ কামাল।
বিশেষ অতিথি
থাকবেন বাংলাদেশ
এশিয়াটিক সোসাইটির
সভাপতি অধ্যাপক
খন্দকার বজলুল
হক, ঢাবির
বাংলা বিভাগের
সাবেক অধ্যাপক
আবুল কাসেম
ফজলুল হক
ও অর্থনীতি
বিভাগের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড.
এমএম আকাশ।
দেশের প্রথম
সারির ৪০টি
প্রকাশনা ও
গবেষণা সংস্থা
এবারের মেলায়
অংশ নিচ্ছে।
মেলায় এ
বছর অংশ
নিয়েছে আদর্শ,
জাতীয় সাহিত্য
প্রকাশ, অনিন্দ্য
প্রকাশ, আলোঘর,
অবসর প্রকাশনা
সংস্থা, এএইচ
ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং
হাউজ, অ্যাডর্ন
পাবলিকেশন, সংহতি
প্রকাশন, শ্রাবণ
প্রকাশনী, বাংলা
একাডেমি, পাঞ্জেরী
পাবলিকেশন্স লিমিটেড,
বাতিঘর, অন্যপ্রকাশ,
সময় প্রকাশন,
ইউনিভার্সিটি প্রেস
লিমিটেড, আগামী
প্রকাশনী, প্রথমা
প্রকাশন, বাংলাদেশ
এশিয়াটিক সোসাইটি,
পাঠক সমাবেশ,
ঐতিহ্য, নালন্দা
প্রকাশনী, দিব্যপ্রকাশ,
তাম্রলিপি, রকমারি,
জাগৃতি প্রকাশনী,
অনুপম প্রকাশনী,
মাওলা ব্রাদার্স,
অনন্যা, কথাপ্রকাশ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশনা সংস্থা,
কাকলী প্রকাশনী,
সাহিত্য প্রকাশ,
একাডেমিক প্রেস
অ্যান্ড পাবলিশার্স
লাইব্রেরি, স্বরে
অ, ডেইলি
স্টার বুকস,
বেঙ্গল পাবলিকেশন্স,
ভাষাচিত্র, বাংলাদেশ
ইনস্টিটিউট অব
ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট
ও কোয়ান্টাম
প্রকাশনী।
ফটো কনটেস্ট: মেলায়
ছবি তুলে
ফেসবুকে পোস্ট
করে জিতে
নিতে পারেন
স্মার্টফোন। সর্বোচ্চ
লাইক ও
শেয়ারপ্রাপ্ত ছবি
পোস্টকারীকে বিজয়ী
ঘোষণা করা
হবে। বণিক বার্তার ফেসবুক
পেজ ও
ইভেন্ট পেজে
জানিয়ে দেয়া
হবে ফলাফল।
ফটো কনটেস্টে
অংশ নেয়ার
নিয়ম হলো,
‘৬ষ্ঠ
নন-ফিকশন
বইমেলা (6th
Non-Fiction Book Fair)’ ইভেন্টে
যুক্ত হয়ে
এ পেজটিতে
ছবি পোস্ট
করতে হবে।
ছবির পোস্টে
অবশ্যই হ্যাশট্যাগ
(#Bonikbarta
#nonfictionbook fair2022) লিখতে
হবে। এছাড়া
চেকইন-এ
(Daily Bonik Barta বণিক
বার্তা) দিতে
হবে।
র্যাফল ড্র: মেলায় যেকোনো প্রকাশনার স্টল থেকে প্রতি ১০০ টাকা সমমূল্যের বই কেনার জন্য থাকছে একটি করে কুপন। বণিক বার্তার স্টলে মানি রিসিট দেখিয়ে সেই কুপন (সর্বোচ্চ ১০টি) সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিদিন থাকছে এয়ার টিকিট, বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের বই, রাইস কুকার, আয়রন মেশিন, ইলেকট্রিক কেতলি, থার্মোফ্লাস্কসহ আরো অনেক আকর্ষণীয় পুরস্কার।










