সম্প্রতি ‘দ্য ট্রি অব পিস’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে উদ্দেশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যত ধরনের পুরস্কার আছে সব জায়গায় তার (ড. ইউনূস) লবিস্ট ফার্ম যোগাযোগ করে। দেশে যখন বন্যা হয় তখন তাকে দেখা যায় না। দেশে যখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, তখন তার কোনো বক্তব্য শোনা যায় না। দেশে যখন কোনো দুর্যোগ হয়, তখন তিনি বিদেশে ব্যস্ত থাকেন পুরস্কার নিতে। কাগজে দেখলাম, আদালতে তার মামলা চলছে। এর মধ্যে তিনি বাকু সম্মেলনে পুরস্কার পেয়েছেন। যাকে দেশের কোনো কাজে পাওয়া যায় না, তাকে এ রকম পুরস্কার দিয়ে বেড়ানো অত্যন্ত হাস্যকর।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে রাজনৈতিক শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম দেশকে পেছনে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক অপশক্তির সঙ্গে ব্যক্তিবিশেষ যোগ দিয়েছিল। দরিদ্র দেশ বলে বহির্বিশ্বে উপস্থাপন করে পুরস্কার নেয় তারা।’

বিএনপিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে কারণে পৃথিবীর ৮০টি রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ পৃথিবীর ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যারা সরকারের সঙ্গে লাইন দিয়েছিল, কিন্তু হিসাবে মিলেনি, এখন তারা মিডিয়ার সামনে এসে নানা কথা বলা শুরু করেছে। সরকারের সঙ্গে কতজন লাইন দিয়েছিল সে তালিকাও আমাদের কাছে আছে। বেশি কথা বললে আপনাদের অনেক কিছু রেকর্ড করা আছে, সব ফাঁস করে দেব। বিএনপি নেতারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলে, তারা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা সবাই রাজনীতির কাক, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে কাকদের সন্নিবেশ ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিল। রাজনীতির কাকরা যেখানেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট পায় সেখানেই ছুটে যেতে চায়।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আজকে দেশ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, সমগ্র পৃথিবী যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছে, তখনই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেই রাজনৈতিক অপশক্তি আবারো দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিকে ভেস্তে দেয়ার চেষ্টা করছে। দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য তারা (বিএনপি) ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দেয়। অর্থাৎ তারা (বিএনপি) বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।’

সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন টয়েলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।