অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয়ার্ধ চলছে। এরই মধ্যে গ্রামাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। হেমন্তের শেষ দিকে উত্তরের দুই জেলা দিনাজপুর ও পঞ্চগড়েও বাড়তে শুরু করেছে শীত। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এছাড়া দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। সোমবার তা কমে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে দাঁড়ায়। তবে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।

নওগাঁর তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। জেলায় ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এভাবে শীত শুরু হওয়া মানে সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকাল ৬টায় দিনাজপুরে আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর সকাল ৯টায় দিনের চূড়ান্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার এবং বাতাসের গড় আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। বেলা ২টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তবে শীতের তীব্রতা অনুভূত হলেও সকাল থেকে সূর্যের আলো থাকায় জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। রাস্তায় যানবাহন ও কর্মব্যস্ত মানুষের চলাচল ছিল নিত্যদিনের মতোই। তবে দুপুর ১২টা পর থেকে সূর্যকে মেঘের বলয় ঘিরে থাকতে দেখা যায়। বেলা ৩টার পর থেকে পুনরায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করে।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ে গতকাল ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল চারদিক। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে যানবাহন। একই সঙ্গে শীত নিবারণ করতে মানুষকে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা কমে গিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সপ্তাহজুড়ে জেলায় ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গতকাল সকাল ৬টায় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং সকাল ৯টার দিকে ১২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।

বুধবার পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় দেখা গেছে, বাস টার্মিনালে নিম্ন আয়ের মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। তবে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সূর্য ওঠার পর কুয়াশা কেটে যায়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, সকালে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। সামনের দিনগুলোতে কনকনে শীতের সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরের জেলা নওগাঁর তাপমাত্রাও কমছে। গতকাল সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।