ঈদের বাকি আর সপ্তাহখানেক। শেষ সময়ে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে সিল্ক বাজারগুলো। নগরীর সপুরা বিসিক শিল্পনগরী, নিউ মার্কেট, সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার সিল্ক শোরুম ও দোকনগুলোতে চলছে কেনাকাটা।
সিল্ক মূলত রেশম পোকার বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি সূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে বানানো হয়। সিল্ক কাপড় দিয়ে তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, টু-পিস, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। হালকা ও নরম হওয়ায় এটি পরেও বেশ আরাম। বিশেষ করে নারীদের কাছে সিল্কের কাপড় খুবই পছন্দের একটা পণ্য।
রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন ঠাকুর জানান, রাজশাহী অঞ্চলে শত শত বছর ধরে সিল্ক উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত হস্তশিল্প পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জিআই স্বীকৃতিও পেয়েছে। গত ছয় মাসে রেশম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গড় বিক্রি মাসে ৩-৪ লাখ টাকা হয়েছে। এবার ঈদে রাজশাহী রেশম কারখানার উৎপাদিত পণ্যগুলোর বিক্রি বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার ঈদে সিল্ক পোশাকে এসেছে নতুনত্ব। দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে নান্দনিক ডিজাইনের সিল্ক শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, স্কার্ফ ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাক। বিশেষ করে তরুণীদের জন্য আধুনিক ডিজাইনের সিল্ক শাড়ি এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন রঙের সিল্ক পাঞ্জাবি রয়েছে। এবারের ঈদ মার্কেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মসলিন শাড়ি।
নগরীর বিসিক এলাকার ঊষা সিল্ক শোরুমের ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালের চেয়ে বিকালের পর কেনাকাটা জমে ওঠে। রোজার প্রথম দিকে ক্রেতা সমাগম কম হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন বিক্রি বেড়েছে। শোরুমে সিল্কের প্রতি পিস শাড়ি ২ হাজার ৮৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকার।’
নগরীর সপুরা সিল্কে পোশাক কিনতে এসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিহা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি খুবই আরামদায়ক এবং দেখতে অনেক সুন্দর। ঈদের জন্য আমি একটি শাড়ি কিনলাম। এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যও বহন করে।’
রেশম ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগেই তাদের পোশাক বিক্রির যে লক্ষ্য ছিল তা পূরণ হয়ে যাবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেশম পোশাকে এসেছে আধুনিকত্ব। রেশমের অনেক শোরুমেই এরই মধ্যে নতুন নতুন ডিজাইনের সিল্ক পোশাক আনা হয়েছে। এসব পোশাক ক্রেতার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাদের মুন্না জানান, অন্যান্য ঈদের মতো এবারো ব্যবসা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, থ্রি-পিস, শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে। বলাকা, মক্কা, কাতান, ছিপ কাতানসহ বিভিন্ন নামের শাড়ি ক্রেতারা পছন্দ করছেন। এছাড়া সিল্কের থ্রি-পিস, হিজাব, ওড়না, স্কার্ফ এবং মসলিন, মটকা, তসর কাতান, বলাকা কাতান, সাটিং সিল্ক ও এনডি প্রিন্টের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। দামও বিভিন্ন রকম রাখা হয়েছে যাতে সব শ্রেণীর মানুষ কিনতে পারে। এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে।
নদী গবেষক, লেখক ও সমাজচিন্তক মাহবুব সিদ্দিক বলেন, ‘রাজশাহী সিল্ক শুধু এ অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করছে তা নয়, বহু মানুষের জীবন ও সংসার সচল রেখেছে রেশম শিল্প। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশা এটির আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সিল্কের সুতা উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে হাজারো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। বর্তমানে দেশে-বিদেশে এর চাহিদাও প্রচুর। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব।’










