পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থসামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনমান উন্নয়নে কাজ করলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান দুটিতে নেই খাগড়াছড়ির কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলিত থেকে যাচ্ছে জেলার বাসিন্দারা।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নবগঠিত মন্ত্রণালয়ে সেবারই প্রথম খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। এরপর থেকে উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা সবাই রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের জনপ্রতিনিধি। কল্পরঞ্জন চাকমার পর খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধিই মন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি। এর আগে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর এ অঞ্চলের উন্নয়নে দ্বিতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এখানেও বারবার উপেক্ষিত হয়েছে খাগড়াছড়ির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ১৯৭৬ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকারি এ সংস্থাটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তবে এ ২১ জনের মধ্যে খাগড়াছড়ি থেকে কেবল একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হলেন খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এরপর খাগড়াছড়ির কোনো সংসদ সদস্য উন্নয়ন বোর্ডে চেয়ারম্যান পদে জায়গা পাননি।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং ২০১৪ সালের সংশোধিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’
আইন অনুযায়ী একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেই উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পর তিন মেয়াদে দুজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম নিজামী। যিনি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাবেন। এর আগে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিবেদিত ৪৫ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান পদে সরকার কাকে মনোয়ন দেবে এ নিয়ে সম্প্রতি তিন জেলায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি থেকে বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। তিন জেলায় উন্নয়নের সুষম বণ্টন নিশ্চিতের লক্ষ্যে তারা এ দাবি জানান। এ জেলার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাই এবার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাবেন।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এ প্রতিষ্ঠান ’৭৫ সালে গঠনের কথা থাকলেও ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহীদ হওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অথচ জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে একজন প্রতিনিধির অভাববোধ করে আসছে খাগড়াছড়িবাসী, যা এ জেলার মানুষের জন্য খুবই হতাশাজনক।
খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এ জেলাকে বারবারই উপেক্ষে করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, খাগড়াছড়িবাসী দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এবার সময় এসেছে মূল্যায়নের। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা আমাদের প্রাণের দাবি।










