পঞ্চগড়ের দুটি সীমান্ত দিয়ে আরো ২৪ জনকে ‘পুশ-ইন’ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বুধবার রাতে বোদা উপজেলার মালকাডাঙ্গা সীমান্তে দিয়ে ১৭ জন ও সদর উপজেলার শিংরোড সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে পুশ-ইন করা হয়। গতকাল দুপুরে সদর থানা ও বোদা থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালেকাডাঙ্গা দাড়িয়ার মোড় সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৭ জনকে রাতের আঁধারে পুশ-ইন করে বিএসএফ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিজিবি সদস্যরা খবর পেয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বোদা থানায় সোপর্দ করেন। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানার আমতলী গ্রামে।

একই সময়ে সদর উপজেলার শিংরোড সীমান্ত দিয়ে আরো সাতজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সদর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। তাদের বাড়ি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়।

বিজিবি জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ভারতের দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ৬ জুলাই তাদের আটক করে ভারতের পুলিশ। পরে তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। বিএসএফ সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, দুটি সীমান্ত দিয়ে ২৪ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। তার মধ্যে ২৩ জনকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান ও বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, আটককৃতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে।

গত ৫ জুলাই পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশ-ইন করে বিএসএফ। পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবির শিংরোড বিওপি সদস্যরা তাদের আটক করেন। একই রাতে অমরখানা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে পুশ-ইন করে বিএসএফ।

এছাড়া বুধবার সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৫৫ জনকে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ৩৩ জন নারী ও ১০টি শিশু রয়েছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ, জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর, গোয়াইনঘাটের তামাবিল ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে তাদের ঠেলে দেয়া হয়। পরে সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহল দল তাদের আটক করে।