মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ১৫ বছর বয়সে নিজের অজান্তেই ২০০২ সালে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মতিউর রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর সুস্থ হয়ে গতকাল বাংলাদেশে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে এলেন সেই মতিউর। তখন ছিলেন ১৫ বছরের কিশোর। এখন তিনি ৩৬ বছরের যুবক। গতকাল পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে দেশে ফিরে এলে তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তুলে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। মতিউরকে দেখামাত্রই তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সন্তানকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে আনন্দে কান্না শুরু করেন বাবা-মা।
মতিউরের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০০২ সালে ১৫ বছর বয়সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে হারিয়ে যান। সে সময় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা শহিদুল ইসলাম। এরপর সারা দেশে খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি তারা। অবশেষে সে অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মতিউর ফিরে এসেছেন পরিবারের কাছে। ২১ বছর পর হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ভাসছেন বাবা-মা। মতিউর রহমান ঠাকুরগাঁও উপজেলা সদরের আখানগর ইউনিয়নের দেবীডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুনে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে মতিউর রহমানকে উদ্ধার করেন ভারতের ‘শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন’-এর সমাজকর্মীরা। উদ্ধারের পর ওই সংস্থার পক্ষ থেকে মানসিক বিপর্যস্ত মতিউরের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর তাকে সিজোফ্রেনিয়া রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার মাধ্যমে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সুস্থতার পর তার কাছেই পরিবারের পরিচয় জানতে পারেন ফাউন্ডেশনের কর্তাব্যক্তিরা। এরপর সেখানকার সমাজকর্মী নীতিশ শর্মা বাংলাদেশে তার দুই বন্ধুর মাধ্যমে মতিউরের পরিবারের খোঁজ পান। তাদের সহযোগিতায় ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রথমে বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মতিউর। এরপর দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসেন মতিউর রহমান।










