পরিবেশ সুরক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বনভূমি সংরক্ষণে সবুজ অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সবুজ অর্থায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
গতকাল হংকং সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশী, ব্যবসায়ী সমাজ ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ‘সুন্দরবন লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল রোধ এবং দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি উদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৪২৪টি পয়েন্ট থেকে এসব নদীতে দূষণ হচ্ছে। নদীদূষণ রোধের পাশাপাশি ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ পরিবেশ সংরক্ষণে কার্বন ক্রেডিট ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নোয়াখালীতে ভূমিহীনদের বসতি স্থাপন, বন বিভাগের জমি-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর এ সফরে হংকংয়ে ‘ইকো এক্সপো এশিয়া ২০২৬’ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ইনোভেশন কনফারেন্স’-এ অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে চীনের হুনান প্রদেশে সবুজ প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
এ সময় হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।










