প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্ণ করল দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বন্দরটি দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ উপলক্ষে প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল দুপুরে বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে বেলুন উড়িয়ে এ আয়োজন উদ্বোধন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান।
এর আগে মোংলা বন্দর দিবস উপলক্ষে বন্দর ভবনের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে বন্দরের জেটির অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিশেষ অবদান ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বন্দর ব্যবহারকারী ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হয়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা কর্মীদেরও সম্মানিত করা হয়।
১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনার চালনা এলাকায় যাত্রা হলেও ভৌগোলিক কারণে তিন বছরের মাথায় বন্দরটির কার্যক্রম সরানো হয় বাগেরহাটের মোংলায়। মূলত ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর ‘দ্য সিটি অব লিয়নস’ নামে ব্রিটিশ বাণিজ্যিক জাহাজের আগমনের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। সুন্দরবনের পশুর নদীর জয়মনির ঘোল এলাকায় নোঙর করেছিল ওই জাহাজ। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘এটি প্রথমে একটি সরকারি অধিদপ্তর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৭ সালের মে মাসে চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এ বন্দর। ১৯৮৭ সালের মার্চে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।’
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩৫৬টি। কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৪টি ইইউজ এবং গাড়ি আমদানি ৪ হাজার ১৩৯টি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি হয়েছে ৪৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টন। অর্থবছর শেষে ১ কোটি ৪ লাখ ১২ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ১৫ লাখ ৩২ হাজার টন বা ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে।










