নীলগিরি, চিম্বুক, স্বর্ণমন্দির, নীলাচল, মেঘলাসহ বান্দরবান জেলাজুড়ে রয়েছে হূদয়স্পর্শী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটন স্থান। পাশাপাশি এ জেলায় রয়েছে ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জীবনধারা, প্রথা, কৃষ্টি ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সহাবস্থান। এ কারণে এবারের বিজয়ের মাসে বান্দরবানে পর্যটক আকর্ষণে গতকাল থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে হোটেল, মোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতি।

বান্দরবান প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গতকাল সকালে যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দেন তারা। বহুমাত্রিক আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিবেষ্টিত জেলা বান্দরবান, যা দেশের পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে করেছে সমৃদ্ধ। ফলে এবারের বিজয়ের মাসে জেলার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো পর্যটক আকর্ষণে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোয় বিশেষ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্মেলনে সংগঠনগুলোর সভাপতি যথাক্রমে অমল কান্তি দাশ, গিয়াস উদ্দিন মাস্টার ও নাছিরুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্যটকদের সেবায় বান্দরবান হোটেল, মোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ৩০ শতাংশ, মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতি ২০ এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ১০ শতাংশ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এছাড়া শুধু পর্যটকদের সেবায় বান্দরবানে ৪০০টি বিভিন্ন পরিবহন, রেস্তোরাঁয় দেড় হাজার এবং হোটেল, মোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আড়াই হাজার কর্মী সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছেন। একই সঙ্গে জেলায় ৫০০ ট্যুরিস্ট গাইড রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, প্রতি বছর এ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে কয়েক লাখ পর্যটক ঘুরতে আসে। 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হকসহ ব্যবসায়ী নেতারা। পর্যটক আকর্ষণে ছাড়ের ঘোষণা দিলেও নিরাপত্তার কারণে বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।