বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের রেলগেট (লেভেল ক্রসিং) এখন শহরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সান্তাহার বৃহৎ জংশন হওয়ার কারণে রেলগেটটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। যে কারণে সান্তাহার শহরে সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না শহরবাসী।

জানা যায়, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ জংশন বগুড়ার আদমদীঘির ‘সান্তাহার স্টেশন’। স্টেশনটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় পৌরবাসীকে যেন দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। প্রতিদিনের সৃষ্ট যানজটের কারণে রেলগেট অতিক্রম করে এক পাশের মানুষ এখন আরেক পাশে যেতেই ভয় পায়। রেলগেটটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় চলাচলে অস্বস্তির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন শহরবাসী। এটি নিরসনে এখনো কাউকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বরং প্রতিশ্রুতি দিয়েই দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কর্তাব্যক্তিরা।

রেল বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন স্টেশন হয়ে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনে আন্তঃনগর, সাধারণ, মেইল ও মালবাহী মিলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫টির মতো ট্রেন (আপ-ডাউন) চলাচল করে থাকে। এসব ট্রেন আদমদীঘি, আক্কেলপুর ও রানীনগর স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় সান্তাহার রেলগেটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ট্রেনগুলো রেলগেট অতিক্রম না করা পর্যন্ত ব্যারিয়ার ফেলে রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী এসব স্টেশন থেকে সান্তাহারে ট্রেনগুলো পৌঁছতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। প্রতিটি ট্রেন গড়ে ১৫ মিনিট করে বন্ধ থাকলে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১১ ঘণ্টার মতো বন্ধ থাকে সড়কটি। ফলে প্রতিদিনই সান্তাহার রেলগেট চত্বরে তীব্র যানজটের কবলে পড়ছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ নিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর সান্তাহার স্টেশনের আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম তালুকদার রেলগেটের যানজট নিরসনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের কাছে একটি ওভারপাস নির্মাণের দাবি জানান।

সান্তাহার রেলগেট চত্বরে যানজট নিরসনে গত বছরের ২২ নভেম্বর থেকে দুজন ট্রাফিক ও একজন সার্জেন্ট মোতায়েন করা হলেও যানজট নিরসন হচ্ছে না। মূল শহরের মধ্যে রেলগেট হওয়ার জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। 

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে দুজন ট্রাফিক পুলিশ এবং একজন সার্জেন্ট রয়েছেন। কিন্তু রেল চলাচলের কারণে রেলগেটে যানজট লেগেই থাকে।

সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, পৌর শহরের মালগুদামের সামনে দিয়ে একটি সড়ক বের করে পান্নার মোড় এবং পরবর্তী সময়ে পোঁওতা রেলগেট পর্যন্ত নতুন সড়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে যানজট কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে মনে করি। সেই লক্ষ্যে আমাদের পৌরসভা থেকে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেলগেট চত্বরের ভ্যানচালক হযরত আলী জানান, রেলগেটটি বন্ধ থাকায় জরুরি মালামাল ও যাত্রী বহন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া যেখানে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন, সেখানে গাড়ি চালানোর কথা চিন্তাই করা যায় না। রেলগেটটি যেন আমাদের শহরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই যানজট থেকে মুক্তি চাই।

সান্তাহার জংশনের স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিম জানান, রেল জংশনের জন্য সান্তাহার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন অনেক মানুষের আনাগোনা এখানে। এছাড়া আগের তুলনায় এ পথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন রেলগেট বন্ধ রাখার সময়ও বেড়েছে। এ কারণেই প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ওভারপাস স্পেশাল গেট হওয়া প্রয়োজন।