নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিকের পাশাপাশি সাত শতাধিক কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। এরই মধ্যে ১৭ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি মাসেই বাকি ধান কাটা শেষ হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

প্রতি বছর ভারি বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলহানি হলেও এ বছর কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ নেই। ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই গোলায় ধান তুলছেন কৃষক।

মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের বাঁকুয়া হাওরের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটা। আগামী কয়েকদিন যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে স্বাচ্ছন্দ্যে ধান কেটে আমরা ঘরে তুলতে পারব।’

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করে। কোনো কোনো বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে এ বছর ধানের ফলন হয়েছে ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরে আগাম বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।’

মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের বাঁকুয়া হাওরে গত বৃহস্পতিবার বিকালে বোরো ধান কাটা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ পারভেজ।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘এবার মদনে ১৭ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার গত বছরের চেয়ে ২৭০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার টন।’

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, ‘এবার আবাদ যেমন বেড়েছে তেমনি ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চফলনশীল নতুন ব্রি-৮৮, ৮৯ এবং ৯২ আবাদ করায় ফলন বেশি হয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি মাসেই হাওর এলাকার শতভাগ জমির ধান কাটা শেষ হবে। এবার জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩ হাজার ৯০০ টন। এছাড়া জেলায় ছোট-বড় ১৩৪টি হাওরসহ নিম্নাঞ্চলের মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীতে এবার ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, ‘কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দেয়া হয়েছে। কৃষি শ্রমিক সংকটে ধান কেটে ঘরে তুলতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’