আসন্ন ঈদে কালোবাজারি ও ভোগান্তি রোধে
সব ধরনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। ৭ এপ্রিল থেকে অনলাইনে ঈদযাত্রার টিকিট বিক্রি
হলেও অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে কাউন্টারে টিকিট বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন
সাধারণ যাত্রীরা। পাশাপাশি পাসের কোটায় টিকিট না রাখায়
অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন রেলওয়ে কর্মীরা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে
প্রতিদিন নিয়মিত ট্রেনের ২৫ হাজার ৯০০ এবং স্পেশাল ট্রেনের প্রায় ৩ হাজার টিকিট বিক্রি
করা হচ্ছে। ঈদযাত্রার সবগুলো টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলেও মধ্যবর্তী সময়ের টিকিটগুলো
অনলাইনের পাশাপাশি কাউন্টার থেকেও বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোর
টিকিট বিক্রিতে অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে অনলাইন ও কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে বলে
উল্লেখ রয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী অনলাইনের পাশাপাশি কাউন্টারে ঈদের টিকিটি বিক্রি হচ্ছে
ভেবে স্টেশনে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঈদের টিকিট বিক্রিতে এই অসঙ্গতির বিষয়টি
স্বীকার করেছে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। বিভ্রান্তি দূর করতে টিকিট বিক্রিতে যুক্ত সহজের (জেভি) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধান
করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য পাসের টিকিট সরবরাহের
বিষয়ে রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় এখনো পর্যন্ত বিশেষ এই
টিকিট সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক
(ট্রাফিক কমার্শিয়াল) নাহিদ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
জন্য আগে পাসের কোটায় টিকিট দেয়া হতো। ‘ভ্রমণ যার, টিকিট তার’ নীতি বাস্তবায়নের কারণে সব টিকিটই
অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে এখনো পাসের কোটায় টিকিট দেয়ার বিষয়ে কোনো
সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রেলওয়ে কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পাসের মাধ্যমে রেলওয়ে টিকিট পেয়ে
আসার কারণে বিষয়টি বিবেচনায় আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলে পাসের কোটায় টিকিট
সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ঈদ পূর্ববর্তী সময়ের
টিকিটগুলো বর্তমানে কাউন্টার ও অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় ঈদযাত্রার টিকিটগুলোর ক্ষেত্রেও
অনলাইন ও কাউন্টার অপশনটি দেখানো হচ্ছে। এটা টেকনিকাল ভুল। সহজের সঙ্গে আলোচনা করে
বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্রে জানা
গেছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত রেলের টিকিট সংগ্রহ করতে অনলাইনে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ
প্রবেশ করেছেন। যদিও টিকিট কিনতে পেরেছেন ৭
থেকে ৮ হাজার মানুষ। বিপুল পরিমাণ মানুষ অনলাইনে সার্ভারে প্রবেশ করলেও টিকিট সীমিত
থাকায় সবাই টিকিট পায়নি। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ভ্যারিফিকেশন করা আইডিগুলো দিয়েই
কেবল টিকিট ক্রয়ের সুযোগ রাখায় এ বছর টিকিট কালোবাজারি হওয়ার সুযোগ নেই। দিন শেষে প্রতিদিনের
টিকিট ক্রয়কারীদের তালিকা প্রতিটি স্টেশনে প্রিন্ট করে সাঁটিয়ে দেয়া হচ্ছে। ঈদের নিয়মিত
ট্রেন ও বিশেষ ট্রেনগুলোতে পরবর্তীতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে ঈদযাত্রার টিকিট
সংখ্যা কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে রেলওয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যিক
বিভাগের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয়
কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, টিকিট কালোবাজারি
প্রতিরোধে রেলওয়ে ঈদের সব টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি প্রশংসনীয়
হলেও রেলওয়ে কর্মচারীদের বিশেষ পাসের মাধ্যমে টিকিট দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে রেলওয়ে
কর্মচারীরা ক্ষোভে ফুঁসছে। দ্রুত পাসের বিপরীতে রেলওয়ে কর্মচারীদের টিকিট ইস্যুর দাবি
জানান তিনি।
রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনের বুকিং সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের টিকিট শতভাগ অনলাইনে দেয়ার কারণে এবছর স্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় নেই। এরপরও কেউ যদি আসে তাদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা কাউন্টারে টিকিট বিক্রির তথ্য দেখিয়ে স্টেশনে আসছে। তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।










