সিলেট নগরীতে মশার উৎপাত কিছুতেই কমছে না। বরং দীর্ঘ বিরতিতে বৃষ্টিপাত শুরুর পর এ উৎপাত আরো বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নগরীর দুটি ওয়ার্ডের পাঁচটি স্থানে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এতে নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এমনতিই মানুষ উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিন যাপন করছে। এর মধ্যে মশার উৎপাত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশার কারণে ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। চলতি সপ্তাহে সিসিকের অভিযানে নগরীর ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচটি জায়গায় এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এতে নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক বেড়েছে। করোনার মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তাদের।

নগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, করোনা সংকটের কথা বলে এ বছর মশক নিধনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন মশার উৎপাত বেড়ে চলছে। বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও।

নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজকর্মী আব্দুল মতিন বলেন, মশক নিধনে কিছু ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উৎসস্থল ধ্বংসে কোনো উদ্যোগ নেই। বন্ধ রয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

ফলে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা জমে মশার বংশবিস্তার ঘটছে।

একই ধরনের অভিযোগ করে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাইয়ুম আহমদ বলেন, সংস্কারকাজের কারণে নগরীর ড্রেন বন্ধ। ফলে পানি জমি ড্রেনগুলোই মশার আবাসস্থল হয়ে উঠেছে।

এ সম্পর্কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, ওসমানী হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য, যার মাধ্যমে রোগী শনাক্ত করা বা তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে খুব একটা সময় লাগবে না। তবে করোনার এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে। নাগরিকরাও বিপাকে পড়বে।

তবে সিসিক বলছে, এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরই মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচির বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ নিয়ে জুলাই পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তাই সিসিকের পরিকল্পনায় ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলেন, গতবার প্রস্তুতি কম থাকলেও এবার ডেঙ্গু মোকাবেলায় পুরোদমে  প্রস্তুত সিসিক। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এ কর্মসূচির মধ্যে বেশ পরিবর্তন আনতে হয়েছে। গত বছর প্রাথমিক পর্যায়ে

সিলেট সিটির ছয়-সাতটি ওয়ার্ডে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবার মাত্র দুটি ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে। ১৫ জুন থেকে আবার লার্ভা সংগ্রহ কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে মশক নিধন কর্মসূচিও চলমান থাকবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি সার্ভে কার্যক্রম শুরু হবে। করোনা প্রকোপ কমে গেলে সিসিকের স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যান্য শাখার কর্মীদের নিয়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করা হবে।

এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিসিক প্রস্তুত রয়েছে। গত শনিবার থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচির বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জুলাই পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এবার একটি স্বস্তির বিষয় হলো গতবার যেভাবে অন্যান্য এলাকা থেকে রোগীরা এসে স্থানীয়দের আক্রান্ত করেছিলেন, সেই শঙ্কাটা এখন পর্যন্ত নেই। কারণ এখন বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন রয়েছে।

তিনি বলেন, ১০ দিন ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের করণীয় নিয়ে নগরীতে মাইকিং করানো হচ্ছে। মশক নিধন শুরুর আগে ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিসিক একা চেষ্টা চালিয়ে সফল হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক নাগরিক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করেন। নাগরিকরা যদি বাসাবাড়ির যে ময়লা-আবর্জনা আছে সেটা যথাস্থানে রাখেন বা সিসিকের ময়লার ভ্যানে দিয়ে দেন, তাহলে ওয়ার্ডগুলো অনেক পরিচ্ছন্ন থাকবে। কিন্তু আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রতিটি ওয়ার্ডেই বাসাবাড়ির ময়লা পলিথিনে করে বাড়ির সামনে বা পাশে রেখে দেন, না হয় ড্রেন ও ছড়ার মধ্যে ফেলেন। এখানে সিসিকের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে।