চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রামগড় স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতে পণ্য আমদানি-রফতানির লক্ষ্যে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কটি প্রশস্ত করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৮ ফুট করার কাজটি শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের ঠিকাদার ভারতীয় অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যদিও দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সে হিসাবে তিন মাসের কিছু সময় অবশিষ্ট থাকলেও অর্ধেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে সেটা কেটে গেছে। ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার সড়ক ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বন বিভাগের সঙ্গে কিছু সমস্যা ছিল তাও সমাধান হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদের মধ্যেই কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল দিল্লিতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৬৩২ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৫৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯ দশমিক ২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভার্ট ও ৩৮ ফুট প্রস্থের ৩৮ কিলোমিটার সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরত্বে রামগড় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ভারত-বাংলাদেশে পণ্য আনা-নেয়া করা যাবে।
এর আগে অন্য একটি প্রকল্পে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি সেতু ও কালভার্টের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। সেতুর পাশে ২০০-৩০০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে তারা।
দেড় বছর মেয়াদের এ প্রকল্পের কাজ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি। পরে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বিষয়টি সত্য নয়। বর্ষার কারণে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বন বিভাগ ও জমি অধিগ্রহণে কিছু জটিলতা রয়েছে।’
সরজমিন সড়কটির বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বেশকিছু স্থানে বন্ধ রয়েছে। বেশকিছু স্থানে কাজ শেষ হয়ে গেছে। আবার কিছু স্থানে কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে রামগড় স্থলবন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য যাবে ভারতে। গতি আসবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। মিরসরাই-সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ডে অবস্থিত মিরসরাই শিল্পনগরে উৎপাদিত পণ্য খুব সহজে ভারতে রফতানি করা যাবে। রামগড়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে এরই মধ্যে মিরসরাই ফটিকছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কর্মকাণ্ডে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।










