ফেনীর কালীদাস পাহালিয়া নদীর ওপর ১৯৯০ সালে সেতু নির্মাণ করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়। সেতুটি নির্মাণের পর ফেনী সদর উপজেলার সঙ্গে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সংযোগ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে সেতুর পাটাতন থেকে অন্তত এক ফুট নিচে ধসে পড়েছে সড়কটি।

স্থানীয়রা বলছেন, নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারণে সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এখনই সেতুর দুই পাড় মেরামত না করলে যেকোনো সময় সদর ও সোনাগাজী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মাণের পর সদর উপজেলার সঙ্গে সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়নের সংযোগ সৃষ্টি হয়। এতে দুই উপজেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে সহজ হয়। নদীর দুই পারে গড়ে ওঠে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেতুটির কারণে সহজে জেলা শহরে যাতায়াতের পথও সুগম হয়। বিগত কয়েক বছরে কালীদাস পাহালিয়া নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারণে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। গত সপ্তাহে ভারি বর্ষণে পানি বেড়ে যাওয়ায় সেতুর দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তাও ধসে যেতে শুরু করেছে।

নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির জানান, সেতুটির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করি সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘কালীদাস পাহালিয়া নদীটি আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। তবে সেতুটি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের। আর দুই পাশের সড়কগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ দেখাশোনা করে। তার পরও সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটির দুই পাশে সড়ক ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যেই মেরামতকাজ শুরু হবে।’