বাগেরহাটে সদ্য ঘোষিত বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার বিকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।  বিক্ষোভ সমাবেশে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত শনিবার  এটিএম আকরাম হোসেন তালিমকে আহ্বায়ক ও মোজাফফর রহমান আলমকে সদস্য সচিব করে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট্য নবগঠিত ওই কমিটির অনুমোদন দেন।

নবগঠিত ওই আহ্বায়ক কমিটিকে অগণতান্ত্রিক ও দলীয় ভাবে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যারা বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডে ছিল না তাদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি থাকলে আমরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হব। আমাদের মূল লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পারব না।

তিনি  বলেন, জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ না করে অগণতান্ত্রিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে যারা বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে ছিল তাদের এ কমিটিতে রাখা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে। আমি মনে করি এ কমিটি ভবিষ্যতে বাগেরহাট জেলা বিএনপিকে দুর্বল করবে। এ কমিটি দিয়ে কোনোভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আশা করা যায় না। তিন দিনের মধ্যে এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর রহমান আলম বলেন, যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছে তার আহ্বায়ক ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির বাইরে ছিলেন। যুগ্ম আহ্বায়ক যারা হয়েছেন তারা থাকেন ঢাকায়। তাদেরও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই। এই কমিটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব নয়।

শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট  অহিদুজ্জামান দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এসকেন্দার হোসেন, সদ্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাহেদ আলী রবি, মেহেবুবুল হক কিশোর, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি ইমরান খান সবুজ প্রমুখ।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপিকে বাগেরহাটে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন আগের সভাপতি এম এ সালাম। ওই কমিটির মধ্যে দিয়ে বিএনপি  ভারমুক্ত হলো। সালামের  স্বেচ্ছাচারিতার কারণ দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছিল। এজন্য রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন দলের অধিকাংশ ত্যাগী নেতাকর্মী।