নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির মধ্যে শসা অন্যতম। এটি প্রধানত সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন এ সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষের পদ্ধতিতেও এসেছে আধুনিকতা। কম খরচে উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মালচিং পদ্ধতিতে সবজিটি চাষ করছেন কৃষক। মালচিং বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি বিশেষ পদ্ধতি। বিভিন্ন ধরনের বস্তু দিয়ে গাছপালার গোড়া বা সবজিখেত ও বাগানের বেডের জমি বিশেষভাবে ঢেকে দেয়াকে মালচ বলে। আর এ পদ্ধতিতে চাষের প্রক্রিয়াই হচ্ছে মালচিং পদ্ধতি। মালচিং পদ্ধতি ফসলের খেতে আর্দ্রতা সংরক্ষণে বিশেষভাবে উপকারী।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও কৃষি প্রদর্শনীর মাধ্যমে মালচিং পদ্ধতিতে কৃষকদের শসা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ৮৬ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৪০-৪৫ মণ পর্যন্ত শসা উৎপাদিত হয়। পাইকারি বাজারে কৃষক প্রতি বিঘা জমির শসা ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারছেন।
সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের ধানসার গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল মিয়া দুই বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা আবাদ করেছেন। তার মতে, এ পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয় এবং সব দিক থেকেই এটি লাভজনক। প্রথমবার মালচিং ব্যবহারে খরচ একটু বেশি হয়, তবে দ্বিতীয়বার থেকে খরচ অর্ধেক কমে আসে।
সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমেনা বেগম জানান, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে ১৬ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ হয়েছে। শসা অল্প সময়ের একটি লাভজনক ফসল। এক বছরে একই জমিতে তিনবার পর্যন্ত চাষ করা যায়। ময়নামতি, এলিনা, ডেইজি, চায়না-১ জাতগুলোর শসা বেশি চাষ হয় এ অঞ্চলে। এছাড়া শীত মৌসুমে সাবেরা, মালিনী, কাঞ্চন, কুলফি জাতের শসাও চাষ করা হয়। কারণ এসব জাত শীত সহনশীল। অল্প সময় ও কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন শসার আবাদ বাড়ছে। সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যায় এবং খরচও বাঁচে।
সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মইনুল হক সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে আগাছানাশ ও নিড়ানি বাবদ খরচ অনেক কমে যায়। মাটিতে পানি সংরক্ষণ হয় বলে সেচের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে আসে।’
রোগবালাই কম থাকে এবং সূর্যের আলো মালচে প্রতিফলিত হয়ে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সাধারণ চাষের তুলনায় ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। মালচিং পদ্ধতিতে খেতের আর্দ্রতা ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে। কারণ এ প্রযুক্তির ফলে জমির পানি সূর্যের তাপ বা বাতাসে দ্রুত উবে যায় না। এতে জমিতে রসের ঘাটতি হয় না এবং সেচের প্রয়োজন হয় কম। মালচিং ব্যবহারে ১০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা সংরক্ষণ সম্ভব। চলতি মৌসুমে জেলায় মালচিং পদ্ধতিতে ৮৬ হেক্টর এবং সাধারণ পদ্ধতিতে ৭১ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ করা হয়েছে।’










