দীর্ঘ একমাস পর নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পাঁচ রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। আজ রোববার থেকে লঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী ও লঞ্চ শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে লঞ্চ চালুর দাবিতে কয়েক দফা আন্দোলন করে আসছিল শ্রমিক ও কর্মচারীরা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৭০টি লঞ্চের মধ্যে চলাচলের জন্য ১৮ লঞ্চ অনুমতি পায়। বাকি ছোট ৫২টি লঞ্চ বন্ধ থাকবে। ১৮টি লঞ্চ পাঁচটি রুটে চলাচল করবে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর ১৩টি, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ একটি নারায়ণগঞ্জ-রামচন্দ্রপুর ২টি, নারায়ণগঞ্জ-নড়িয়া একটি, নারায়ণগঞ্জ-মতলব একটি লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর লঞ্চ চালু হওয়ায় খুশি যাত্রীরা। তবে সব লঞ্চ চলাচলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা।

জানা গেছে, গত ২০ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজ রূপসী-৯ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল আফসার উদ্দিন ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচ রুটে চলাচলকারী ৭০টি লঞ্চ বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনার চার দিন পরে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌপথে একটি সি-ট্রাক চালু করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর নৌপথে ঢাকা থেকে আগত দুটি লঞ্চ চালু করা হয়। আর নারায়ণগঞ্জের ছোট লঞ্চগুলো অনিরাপদ বলে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়নি। 

এরপর থেকে লঞ্চ মালিক সমিতি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব লঞ্চের শ্রমিক কর্মচারীরা লঞ্চ চালুর দাবিতে মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্সসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। 

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ-পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য বলেন, নারায়ণগঞ্জে ১৮টি লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল করছে। তিনি বলেন, ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাকি ৫২টি লঞ্চের অনুমতি মেলেনি। 

এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ৭০টি লঞ্চের মধ্যে তাদের ১৮টি লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। সব লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় (তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছে) এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে যাত্রীবাহী লঞ্চ এম.এল সাবিত আল হাসান ডুবে ৩৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।