তবে প্রায় ২ ঘণ্টা পরে এক অনুষ্ঠানে বদলির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন মন্ত্রী।

গতকাল আকস্মিকভাবে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এ সময় মন্ত্রী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চলমান পরিস্থিতির উন্নয়নে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।

এদিন দুপুরেই চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে মন্ত্রীকে জানানো হয়। সে সময় আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সিভিল সার্জনকে মৌখিকভাবে ক্ষমা করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দায়িত্ব অবহেলা করলে আর ছাড় দেয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ক্যাম্পেইন করা হবে। জন্মহার কমানোর উদ্যোগ হিসেবে সহজভাবে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করব। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছি। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, দেশকে উন্নত করব এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

এ সময় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুন্নবী মাছুম উপস্থিত ছিলেন।