বেলা প্রায় ৪টা ছুঁই ছুঁই। এক মাস তিন দিন বয়সী মেয়ে নুসরাতকে ঘুমে রেখে দুপুরের ভাত খেতে বসেন নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তা। হঠাৎ বিস্ফোরণ। ভাতের থালার ওপর এসে পড়ে ঘরের চালের ময়লা। জ্ঞান হারান মুক্তা, তবে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি তার। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় মুক্তার ৩৩ দিন বয়সী কন্যাশিশুও।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসূল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। এসময় ঘরের মালিক নিজাম উদ্দিন ফায়ারম্যান জানান, তিনি শনিবার সকালে কাজ করতে বাইরে যান। ঘরে তার স্ত্রী মুক্তা ও এক মাস তিন দিন বয়সী মেয়ে নুসরাত ছিল। বেলা ৪টায় মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসেন মুক্তা। কিন্তু সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যায় তার নতুন ঘর। স্ত্রীর খাবারের থালায় এসে পড়ে চালার টিনের ময়লা-আবর্জনা। জ্ঞান হারান তার স্ত্রী, তবে তেমন ক্ষতি হয়নি তার।। অল্পের জন্য বেঁচে যান তার অবুঝ সন্তান।

সরেজমিনে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের দুই পাশে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘরের টিন, দরজা, জানালা ভেঙে গেছে। কেশবপুর গ্রামের তাজ ভিলার তৌহিদুর ইসলাম জানান, প্রায় আট মাস আগে তাদের ঘর নির্মাণ করেছেন। কিন্তু বিস্ফোরণে তাদের ঘরের ১০টি দরজা ও ২০টি জানালা উড়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কারখানার পাশে অবস্থিত কলি স্টোরের স্বত্বাধিকারী কবির হোসেন জানান, বিস্ফোরণে তার ছেলে নাঈম পারভেজ আহত হয়েছে। দোকানের ফ্রিজ, ফ্যানসহ সব কিছু তছনছ হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

শুরুতে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া  কেশবপুর গ্রামের আবু তাহের জানান, তিনি স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির সহযোগিতায় ৩টি লাশ উদ্ধার করেছেন। বিস্ফোরণে তার বাড়ির তিনটি পানির ট্যাংক ও দরজা জানালা ভেঙে গেছে।