উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিশখালী নদীর তীরে জেগে ওঠা ছৈলার চর ঘিরে দেখা দিয়েছে পর্যটনের সম্ভাবনা। পর্যটকরাও আসছে নিয়মিত। বঙ্গোপসাগর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হেতালবুনিয়া গ্রামে বিশখালী নদীতে এক যুগেরও আগে ৪১ একর জমি নিয়ে জেগে ওঠে চরটি, যা এখন ৬১ একরে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ছৈলা গাছ থেকে চরটি পরিচিতি পেয়েছে ছৈলার চর নামে। ছৈলা ছাড়াও এখানে কেয়া, হোগলা, রানা, এলি, মান্দার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ছৈলা একটি লবণসহিষ্ণু বৃক্ষ। উপকূলীয় নদীর চরে প্রকৃতিগতভাবে জন্মে ছৈলার গাছ।
চরে ঘুরতে আসা পর্যটক সাইফুল হক বলেন, ‘ছৈলার চরে প্রায়ই ঘুরতে আসি। এখানে রয়েছে মৌচাক ও ছৈলার বাগান। নদীর মনোরম পরিবেশ দেখে মনটা ভরে যায়। রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ছৈলার বাগান। এখন আর সুন্দরবন যেতে হবে না। আমাদের কাছে একখণ্ড সুন্দরবন হচ্ছে ছৈলার চর।’
ছৈলার চর এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ছৈলার চর অবহেলিত একটি জায়গা ছিল। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি লেক, একাধিক গোলঘরসহ অনেক স্থাপনা এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ছৈলার চরকে দেখতে পাব।’
ছৈলার চরের মো. সাগর আকন বলেন, ‘এখানে আগে তেমন কিছু ছিল না। এখন বসার জন্য বেঞ্চ, দোলনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছৈলার চরে আশার আলো যুবসমাজ কল্যাণ সমবায় সমিতি করে দিয়েছেন। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠনের সদস্য। তারাও চরটিকে সংরক্ষণের চেষ্টা করে। সাধারণ মানুষ বা কোনো পর্যটক এলে তাদের গাইড হিসেবে কাজ করে।’
জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ‘ছৈলার চরকে আকর্ষণীয় করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও এখানে আশপাশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন ছৈলার চরে ঘুরতে আসে। তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ছৈলার চর একসময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আমি মনে করি।’










