ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ব্রাসেলসে ইইউ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নবনিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনপ্রধান মাহবুব হাসান সালেহ গতকাল লেটারস অব ক্রিডেন্স উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন। গতকাল ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

মিশেল বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত তার আগের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত সালেহ রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আস্থা সৃষ্টির জন্য বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

ইইউ প্রেসিডেন্ট জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের কথা স্বীকার করেন এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বর্তমান সভাপতিত্বের কথা উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত সালেহ মতবিনিময় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে একটি নিবেদিত দ্বিপক্ষীয় প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রচলিত ক্ষেত্রগুলোর বাইরে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্বের পরিধি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল, চিকিৎসা কেন্দ্র, দ্বীপে কর্মরত দেশী-বিদেশী সংস্থার লোকজনের জন্য থাকার আলাদা ভবনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।

এছাড়া জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে সেখানকার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৯ ফুট উঁচু বাঁধ এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণ করা হয়েছে ভাসানচরে।

এছাড়া কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জন্য এক বছরের রসদ মজুত করা হবে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য নানা ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশী-বিদেশী ২২টি সাহায্য সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই স্থানান্তর বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

কয়েক দশকে মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের গ্রামে গ্রামে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ শুরু করলে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।