স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে খুলনায় ১৮৩টি সড়কের নির্মাণকাজ চলমান। জেলার নয়টি উপজেলায় সাতটি উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করা হচ্ছে। যার অধিকাংশেরই নির্ধারিত মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও কাজ শেষ হয়নি। বেশ কয়েকটি সড়কের কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে প্রকল্পের কাজ। বারবার শুধু মেয়াদই বাড়ছে, তবে কাজ অসমাপ্ত রয়ে যাচ্ছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া ফেলে রাখায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনার বালিয়াখালী বাজার থেকে হামকুড়া হয়ে থুকড়া বাজার পর্যন্ত চার হাজার মিটার সড়ক উন্নয়নকাজটি শেষ করার কথা ছিল এক বছরে। ২০২২ সালে সড়কের কাজ শুরু হলেও শেষ হয়নি সাড়ে তিন বছরেও। ফলে অসমাপ্ত সড়কটি জলাশয়ে ধসে পড়েছে। খোয়াগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

এছাড়া খুলনার কয়রা উপজেলায় চলমান রয়েছে ২৭টি সড়কের কাজ। এর মধ্যে ২৩টির উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি।

এলজিইডির তথ্য বলছে, খুলনার নয়টি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয়ের অধীনে সাতটি উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্প চলমান। এসব প্রকল্পের আওতায় ১৮৩টি সড়কের কাজ চলছে। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় ২৭টি, পাইকগাছায় ১৬টি, ডুমুরিয়ায় ২৬টি, দাকোপে ৩০টি, বটিয়াঘাটায় ২৩টি, রূপসায় ১৭টি, দিঘলিয়ায় ২০টি, তেরখাদায় ২০টি ও ফুলতলায় চারটি সড়কের কাজ চলছে। তবে সড়কগুলোর কোনোটিই নির্ধারিত মেয়াদে শেষ করা যায়নি। বারবার শুধু মেয়াদই বাড়ছে, কিন্তু কাজ অসমাপ্ত রয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তদারকির কোনো অভাব নেই। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই মূলত কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। ফেলে রাখা কাজ বা কাজ নিয়ে বসে রয়েছে এমন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এসব কাজ শেষ করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।’