আইন ও বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলমের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুহুল কুদ্দুস কাজলকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করব।’
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘জনগণ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। কারো ন্যায়বিচারে বাধা দেব না।’
রুহুল কুদ্দুস কাজল দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিরও সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী।
পেশাগত জীবনে রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান।
আইন পেশার পাশাপাশি রুহুল কুদ্দুস কাজল কূটনৈতিক দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ২০০৬ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। একই বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সনদ লাভ করেন। ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন রুহুল কুদ্দুস।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়েন তিনি। এরপর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। আর ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে নির্বাচিত আসাদুজ্জামান এখন বিএনপি সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী।










