সিলেট নগরের মেন্দিবাগে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে সিলেট জেলা পরিষদ। ‘সিলেট জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট-২’ নামে ওই ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে দরপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ।

এ নিয়ে জেলা পরিষদের এ প্রকল্পে দরপত্র জমা দেয়া ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এভাবে দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্নের আগেই কাজ শুরু করে দেয়াকে অনৈতিক বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মেন্দিবাগে এ মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। তখন প্রথম ও দ্বিতীয় তলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা দরদাতা হিসেবে এ কাজ পান ঠিকাদার রূপক দাস। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করেন।

এরপর গত ২৯ জুলাই এ মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৩ আগস্ট জমা পড়া দরপত্র খোলা হয়। তবে এখনো কার্যাদেশ হয়নি। তবে তার আগেই শুরু হয়ে যায় তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ পাওয়া ঠিকাদার রূপক দাসই তৃতীয় তলা নির্মাণের কাজ করছেন।

গত সোমবার মেন্দিবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখন তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ছাদ ঢালাইয়ের জন্য বাঁশ ও কাঠ বসানো হয়েছে।

জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার দরপত্রেও সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছেন রূপক দাস। ফলে তিনিই কাজ পেতে যাচ্ছেন। একই ঠিকাদার প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ করায় নির্মাণকাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় তাই তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কার্যাদেশ হওয়ার আগেই তাকে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার রূপক দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার পক্ষে রিপন আহমদ নামে আরেকজন ঠিকাদার এ প্রকল্পের কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে রিপন আহমদ বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমি তৃতীয় তলার কাজ করছি। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ শেষে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। এ টাকা দিয়েই তৃতীয় তলার কাজ করছি।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদির মোজাহিদ বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণের কার্যাদেশ এখনো হয়নি। নির্মাণকাজও শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে অফিস প্রধানের অনুমতি ছাড়া আর কোনো মন্তব্য করতে তিনি অসম্মতি জানান।

সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও আমরা বৈঠক করেছি। মার্কেটের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ যে ঠিকাদার পেয়েছেন তৃতীয় ও চতুর্থ তলার নির্মাণকাজও তিনিই পেতে যাচ্ছেন। এর সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন কেবল ঘোষণার অপেক্ষা।

কার্যাদেশ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মার্কেটের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ১৫টি করে দোকানকোঠা করার কথা ছিল। কিন্তু কিছু জায়গা ছাড়তে হওয়ায় ১৪টি করে দোকানকোঠা হয়েছে। এজন্য কিছু টাকা বাড়তি রয়ে গেছে। এছাড়া যেহেতু একই ঠিকাদার দুটি কাজই পেয়েছেন, তাই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা তাকে তৃতীয় তলার কাজও চালিয়ে যেতে বলেছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যাদেশ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ সময়ে যাতে কাজ বন্ধ না হয়ে পড়ে সেজন্য কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শিগগিরই তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কার্যাদেশ হয়ে যাবে।

জেলা পরিষদ ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কার্যাদেশ শুরুর আগে কাজ শুরু সম্পূর্ণ অবৈধ। কর্তৃপক্ষও এভাবে কাউকে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারে না।