নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ আসামির ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় দেন।

এ সময় প্রত্যেক আসামির ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ মাস করে কারাদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নুর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ, দেলোয়ার হোসেন দেলু, আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান তারেক। এর মধ্যে আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান তারেক পলাতক রয়েছেন।

তবে আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী জানান, তার ওপর নির্যাতন চালানোর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের অন্তত যাবজ্জীবন সাজা আশা করেছিলেন তিনি। অবশ্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশীদ লাভলু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন আদালত।

পিপি মামুনুর রশীদ লাভলু আরো জানান, আদালত এ মামলায় বিশ্লেষণপূর্বক পর্যবেক্ষণ দিতে গিয়ে বলেন, ঘটনার নারকীয়তা ও বিভৎসতা অনুযায়ী আসামিদের শাস্তি কম হয়েছে। এ ঘটনায় আরো বেশি শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তবে আইনে যতটুকু বিধান রয়েছে তার ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুর নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে একই বছরের ৪ অক্টোবর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে ভাইরাল হয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪ অক্টোবর রাতে বেগমগঞ্জ থানায় ধর্ষণ, বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে তিনটি মামলা করেন। এরই মধ্যে আদালত চলতি বছরের ৪ অক্টোবর ধর্ষণের মামলায় দেলোয়ার হোসেন দেলু ও আবুল কালামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।