দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতি এখনো উপযোগী নয় বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কাকে কিংবা কোন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে, নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো হচ্ছে, অবশ্যই জনগণের সেটি জানার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত যে পিআর পদ্ধতি, এতে কোন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হচ্ছে জনগণের সেটি জানার পরিষ্কার কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি জাতীয় সংসদে বা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে চাইলে, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখোমুখি হয়ে আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে রায় অর্জন করা জরুরি। পিআর পদ্ধতি এবং আরো দুই-একটি ইস্যুতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্ন মত রয়েছে। এই ধরনের ভিন্ন মত গণতান্ত্রিক বিশ্বে স্বীকৃত, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে বাস্তবতার নিরিখে প্রতিটি ইস্যুই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরভাবে সমাধান হয়ে যাবে বা সমাধান করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, যারা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছেন এর মাধ্যমে আপনারা হয়ত নিজের অজান্তেই গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করে তুলছেন। সেই সঙ্গে পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার পুনর্বাসনের পথও হয়তবা সুগম হচ্ছে, যদি আমরা গণতন্ত্র উত্তোরণের পথে শর্তের পর শর্ত আরোপ করতে থাকি।

গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সহযোগী তাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ এমন পর্যায়ে নেয়া উচিত হবে না যেই বিরোধকে পুঁজি করে পরাজিত ফ্যাসিবাদ নিজেদের অপকর্মগুলোকে জাস্টিফাই করার সুযোগ নিতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মনে করি প্রতিটি ইস্যুতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য হতেই হবে, এটি এমন কোনো জরুরি বিষয় নয়। তবে অবশ্যই পলাতক স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ তাদের পুনর্বাসন ঠেকানো কিংবা দেশকে তাবেদার মুক্ত রাখার মতন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে অবশ্যই ঐকমত্য এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আমাদের সামনে একটি বিশাল বড় সুযোগ। সারা দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা চায়। আমি আবার বলতে চাই, আপনার-আমার আমাদের দল বিএনপি বিশ্বাস করে, দল-মত-ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ধর্ম বিষয়ক সহসম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি সরকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য রনেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, নিপুণ রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তপন চন্দ্র মজুমদার, এসএ তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের জয়দেব জয়, হিন্দু মহাজোটের সুশান্ত চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ইনকনের প্রভু বিমলা প্রসাদ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল বারী ড্যানি, জন গোমেজমহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।