এলপিজি হলো লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এলপিজিকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল আকারে সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটি বাজারজাত করা হয়, যা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদ করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়ার বিধান রয়েছে। তবে চাঁদপুরে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফার্মেসি, মুদি, স্টেশনারি এমনকি ফ্লেক্সিলোডের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলার বাজারগুলোয় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। দোকানের সামনে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। চায়ের দোকান, সার-কীটনাশক, টেইলার্সেও বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এছাড়া পাশাপাশি একই দোকানে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার। ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যবসার ধরন নির্দিষ্ট করে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। সেটিও মানা হচ্ছে না জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে।
২০০৪ সালের এলপিজি মজুদ সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত কেউ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করতে পারবে না। গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করার স্থান সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেখানে কোনো প্রকার আগুন বা বৈদ্যুতিক সংস্পর্শ যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সদর উপজেলার চান্দ্রা চৌরাস্তায় স্যানিটারি পণ্য বিক্রি করেন জহিরুল ইসলাম। তিনি এলপিজি সিলিন্ডারও বিক্রি করেন। তবে বিক্রির জন্য অনুমোদনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার অনেক দোকানে বিক্রি হয়, আমিও তাদের মতো বিক্রি করি।’ কী পরিমাণ সিলিন্ডার মজুদ রাখা যাবে, সেটি তিনি জানেন না।
সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারের মোটর গ্যারেজে বিক্রি হয় গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেল। দোকানের মালিক সুমন দাস জানান, কোনো নিয়মই তিনি জানেন না। দুর্ঘটনা হলে করণীয় কী, সেটাও বলতে পারেননি এ ব্যবসায়ী।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া বাজার, ভাটিয়ালপুর, নয়ারহাট, রামপুর, গোয়ালভাওর এলাকার দোকানগুলোতেও দেখা গেছে এলপিজি সিলিন্ডারের মজুদ।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের নিয়ম হচ্ছে, একটি দোকানে ১২ লিটারের সর্বোচ্চ আটটি ও বড় হলে তিনটি সিলিন্ডার রাখা যাবে। এজন্য লাইসেন্স লাগবে না। তবে সিলিন্ডার রোদে না রেখে ঠাণ্ডা স্থানে রাখতে হবে।
সদর উপজেলার রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিলিন্ডার দোকানের সামনে না রাখলে ক্রেতারা জানবে কীভাবে। এজন্য রোদে রাখা হয়।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানি বিক্রির বিষয়টি অবগত হলাম। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
গত ২০ অক্টোবর চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদিতে খাবারের হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।
বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ভোক্তার সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয় দোকানগুলোয় বিক্রির জন্য অনুমোদন লাগে না। তবে যেকোনো দোকানে ১২ লিটারের ৮-১০টির বেশি সিলিন্ডার রাখা যাবে না। ১২ লিটারের বেশি ওজনের হলে তিন-চারটি সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করা যাবে। অতিরিক্ত মজুদ করলে অবশ্যই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স লাগবে। তবে সিলিন্ডার রাস্তার ওপর রেখে বিক্রি করা যাবে না। ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে।’










