জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধিকাংশ সড়কই বেহাল। বিভিন্ন উপজেলার সড়কগুলোয় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়কে পানি জমে। এতে যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রতি অর্থবছর এক থেকে দেড়শ কিলোমিটার করে সংস্কার করা হলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কগুলো। এতে মোটা অংকের টাকা অপচয় হচ্ছে সরকারের। কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে অল্প সময়েই সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই ভাগে সংস্কার করা হয়েছিল নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরের সংযোগ সড়কটি। সোনাপুর থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সুবর্ণচর উপজেলার পাশাপাশি হাতিয়ায় যাওয়ারও অন্যতম সড়ক এটি। ১৯ কিলোমিটারের সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে এ সড়কের ৯০ শতাংশই খানাখন্দে ভরে গেছে। বেশির ভাগ অংশে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। এতে সড়কে যানবাহনগুলো প্রায় বিকল হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। দুর্ভোগ লাগবে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, সড়কটির দায়িত্ব বর্তমানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই অর্থবছর দুই ভাগে সংস্কার হয়েছিল জেলা সদরের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের অন্যতম সংযোগ সড়কটি। প্রায় ২০ কিলোমিটারের সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে ওই সড়কটিরও একই দশা। দুর্ভোগের শেষ নেই এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও যানবাহন চালকদের। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকায় অল্প সময়ে সড়কের বেহাল হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানায়, এ বছর সড়কে সৃষ্ট গর্তগুলোতে আস্ত ইট ফেলেছে এলজিইডি। ফলে সমস্যা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ওই সড়কের আদর্শ স্কুল মোড় এলাকার বাসিন্দা নিজাম জানান, সংস্কারের এক বছরের মথায় সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এখনো সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ঠিকাদার উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাচ্ছেতাই কাজ করে গেছে। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

অটোরিকশাচালক শাহাব উদ্দিন জানান, এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অন্তত চারবার তার রিকশাটি বিকল হয়েছে। শুধু এ দুটি সড়ক নয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার কবিরহটি, সুবর্ণচর, সদর পশ্চিমাঞ্চল, সেনবাগসহ বিভিন্ন উপজেলার সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা নাজুক। গ্রামীণ সড়কগুলোর দশা আরো ভয়াবহ। সড়কে সৃষ্ট গর্তগুলোতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমাট হচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে সড়কগুলো।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবমতে, জেলায় ১২ বছরে নতুন সড়ক উন্নয়ন হয়েছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। সব মিলিয়ে বর্তমানে এলজিইডির পাকা সড়ক প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। এসব সড়কের ৪৫ শতাংশেরও বেশি ব্যবহারের অনুপযোগী।

এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকরামুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, বর্ষায় সড়কে পানি জমাট বাঁধা এবং সড়কের পাশের গাছের কারণে অল্পদিনেই সড়ক নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলও সড়ক নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। তাছাড়া বরাদ্দও কম। স্বল্প বরাদ্দ দিয়েও নিয়মিত সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব সড়ক সংস্কার করা হবে।

সড়ক উন্নয়নে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।