জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। তবে এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি। এছাড়া কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতের নাম আব্দুল মতিন (৫০)। তিনি ওই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। আব্দুল মতিন বগুড়ায় আনসার ও ভিডিপির সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ শতক জমি নিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সাবান আলী ও শহিদুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে গতকাল সকালে সাবান আলীর পক্ষের লোকজন শহিদুলের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে শহিদুল ও তার ছেলে মতিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে শহিদুলের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ১৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সাবান আলী ও শহিদুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিনের মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এছাড়া এ মৃত্যু কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরো জানান, আনসার সদস্য নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি, দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা যাবে।










