বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। ১৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি। ২১ আগস্ট কাটাখালী থেকে নওয়াপাড়া মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। তবে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবরোধে অচল হয়ে পড়ে জেলার সড়কপথ। যানবাহন বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে রোগী ও পরীক্ষার্থী সবাইকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগী বহনকারী যানবাহন ছিল অবরোধের আওতামুক্ত।

এর আগে সকাল ৮টায় খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালী, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ জেলার অন্তত ১০টি স্থানে অবরোধ করেছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। এতে বাগেরহাট জেলার সঙ্গে সব জেলার যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। এছাড়া ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।

খুলনা থেকে মোরেলগঞ্জের কালিকাবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন মোহাম্মদ মোল্লা। তিনি জানান, তিনি অসুস্থ অবস্থায় ভোরে খুলনা থেকে বের হলেও অবরোধের কারণে একাধিকবার গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। খুলনা থেকে কাটাখালী পর্যন্ত আসার পর তাকে নামিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে অন্য গাড়িতে দশানী পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। সেখান থেকে আবারো গাড়ি বন্ধ। আন্দোলন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার বলেন, ‘খুলনা সিটি কলেজে আমার পরীক্ষা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে ধাপে ধাপে বাধা অতিক্রম করে বাগেরহাট নতুন কোর্ট পর্যন্ত আসছি। তখন সাড়ে ১০টা বাজে। অথচ তখনো বাগেরহাট ছাড়তে পারিনি।’

এদিকে আজ ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির। কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, ‘বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো রাজপথ অবরোধ, আবার নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে। এর পরও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাব থেকে ফিরে আসেনি। এ কারণে আমরা অবরোধের ডাক দিয়েছি। জেলার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সফল করেছে।’

গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দিলে জেলায় সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়। আজ নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।