চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মুহুরি সেচ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা তোহিদুল ইসলাম তুহিন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। চট্টগ্রাম শহরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বাবা শাহাদাত হোসেন। তখনো স্কুলের গণ্ডি পার করতে পারেননি তুহিন। বাবার দোকানে কাজের পাশাপাশি চালাতেন বেবিট্যাক্সিও। এরপর শুরু করেন মৎস্য খামার। ১০ বছরে এখন তার পুকুরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫০ একর।
সফলতার বিষয়ে তোহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, এলাকার এক চাচা কামরুল হুজুরের খামারে কাজ করতেন। পাশাপাশি পিকআপ চালাতেন। উপজেলার ওসমানপুর, ইছাখালী, মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় মাছের খামার গড়ে উঠছিল তখন। কামরুল হুজুরের পরামর্শে মায়ের ডিপিএসের ৫০ হাজার টাকায় ৫০ শতকের একটি পুকুরে চাষ শুরু করেন তিনি। ১০ বছরে এখন তার পুকুরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫০ একর। মৎস্য খামারে প্রায় ১৫ কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। আরো ২৫০ একর পুকুর খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি আছে গরুর খামার। নতুন খামার এবং মাটি কাটার যন্ত্রসহ ২০ কোটি টাকার পুঁজি দাঁড়িয়েছে তুহিনের। বর্তমানে তার ৭০ জন কর্মচারী রয়েছেন। বছরে মাছ বিক্রি করেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন। এসব মাছ চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তে চলে যায়।
তিনি বলেন, ‘মাছ চাষে সফলতার প্রথম ধাপ হলো সততা। প্রতি বছর এখানে মাছ চাষে তার কয়েক হাজার টন খাদ্যের প্রয়োজন হয়। একসঙ্গে পুঁজি বিনিয়োগ করতে না পারলে কোম্পানির সঙ্গে বকেয়া লেনদেন করতে হয়। আমার পুকুরে অনেক দেশী মাছ রয়েছে। মাছগুলো দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে আমি বাজারে বিক্রি করি। মাছ চাষে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সাহস না থাকলে এ পেশায় আসা উচিত নয়।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার তৌহিদুল ইসলাম মাছ চাষে সাফলতা দেখিয়েছেন। তবে তা যদি কখনো সরকারি সহায়তা প্রয়োজন হয়, আমরা তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করব।’










