কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচন আগামীকাল। গতকাল রাত ১২টায় বন্ধ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার। তার আগে এদিন দিনভর শেষ মুহূর্তে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চালান সবাই। প্রচারের শেষ দিনে গতকাল উঠান বৈঠকের পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চান প্রার্থীরা। স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের অঙ্গীকার করেন তারা। সব প্রার্থীই বলছেন, ভোট সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। 

কুসিকের দুবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু একসময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় দলটির তৃণমূলের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে নিজের মেয়াদে চালানো বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরছেন তিনি। আবারো নির্বাচিত হলে আগের মেয়াদের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মনিরুল হক সাক্কু। তিনি বলেন, ‘এ সিটির উন্নয়নে আমি দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এনেছি। দুবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগরের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেব না।’ 

আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডা. তাহসিন বাহার সূচনা গতকাল নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ ও দুটি স্থানে উঠান বৈঠক করেন। এসব কর্মসূচি থেকে তিনি ভোটারকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচিত হলে কুসিককে একটি স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। 

ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার আধুনিকতার ছোঁয়ায় কুমিল্লাকে নতুন রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নগরবাসীকে দুর্নীতি, নির্যাতন ও শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতেই আমার নির্বাচন করা। গণসংযোগে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করেছে।’ 

হাতি প্রতীকের প্রার্থী নূর উর-রহমান মাহমুদ তানিম বেকারদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত এবং নগর ভবনকে দলীয় কার্যালয় না বানানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ জনগণের করের টাকা সততার সঙ্গে উন্নয়নকাজে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। 

২০২২ সালের ১৫ জুন কুসিকের তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দুবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়র রিফাতের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। শনিবারের উপনির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা।