ঠাকুরগাঁও কোল্ড স্টোরেজে আলুর বস্তার অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে ও ন্যায্য ভাড়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ঠাকুরগাঁও আলুচাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর ঘেরাও করে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরে ঠাকুরগাঁও জেলার আলু সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজগুলোয় ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের সুপারিশকৃত একটি দরখাস্ত জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেন আলুচাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতারা।

এ সময় আলুচাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা বিধান চন্দ্র দাসসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে বক্তারা বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার আলু সংরক্ষণের কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা সিন্ডিকেট করে অনৈতিকভাবে সারা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করে এলাকার আলুচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অন্যায়-অবিচার করছেন। এতে করে আলুচাষী ও ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হবে।

তারা বলেন, দেশের রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও মুন্সীগঞ্জের কোল্ড স্টোরেজগুলোয় ২১০-২২০ টাকা বস্তায় আলু সংরক্ষণ করা হলেও এখানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। বারবার আমরা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। অবিলম্বে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজ্জাক স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরে অনেক আলুর বস্তা পচে যাওয়ায় রাতারাতি বস্তাগুলো পাশের জায়গায় গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন আলুচাষীরা। তারা জানান, আলুর বস্তাগুলো বের করার সময় হয়তো তারা আলুর বস্তা ফেরত দিতে টালবাহানা বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করতে পারে মালিক পক্ষ। তাই এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২৯ মে জেলা প্রশাসক বরাবর আরো একটি আবেদনপত্র দাখিল করেছেন আলুচাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতারা।